বিশ্বকাপের জায়ান্ট স্ক্রিনে ‘নিষিদ্ধ’ কিংবদন্তির নাম | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বকাপের জায়ান্ট স্ক্রিনে ‘নিষিদ্ধ’ কিংবদন্তির নাম | চ্যানেল আই অনলাইন

তুরস্কের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ডধারী হাকান শুকুর দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশে নিষিদ্ধ। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি, তুরস্ক ও প্যারাগুয়ের ম্যাচে স্টেডিয়ামের বিশাল পর্দায় ভেসে উঠেছে তার নাম।

লেভি’স স্টেডিয়ামে ১০ জনের প্যারাগুয়ের কাছে ১-০তে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তুরস্ক। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে গোলে জয় নিশ্চিত করেন মাতিয়াস গালারজা। ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনা শুকুরকে ঘিরে। তুরস্কের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। সান্তা ক্লারার ম্যাচটি তার বাসস্থানের একেবারে কাছে হলেও নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় মাঠে উপস্থিত হননি।

শুকুর তুরস্ক জার্সিতে ১১২ ম্যাচে ৫১ গোল করেছেন। ২০০২ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন এবং তুরস্ককে তৃতীয় স্থান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি গড়েন।

ক্যারিয়ার শেষে রাজনীতিতে যুক্ত হন শুকুর। পরে তাকে ফেতুল্লাহ গুলেনের আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযুক্ত করা হয়। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

২০১৬ সালে তুরস্ক সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং সকল সম্পদ জব্দ করে। তার আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। বর্তমানে ক্যাফে ব্যবসা, উবার চালানো ও ফুটবল একাডেমি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আছেন।

শুকুর ও তার পরিবার বহু বছর ধরে তুরস্কে ফিরতে পারেননি। ২০২২ বিশ্বকাপে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিআরটির এক ধারাভাষ্যকার সম্প্রচারের সময় তার নাম উল্লেখ করায় বিরতির মধ্যেই চাকরি হারান।

এবারের বিশ্বকাপে তুরস্কের দ্বিতীয় ম্যাচটি তার বাড়ির কাছে অনুষ্ঠিত হলেও মাঠে না গিয়ে বাসায় খেলা দেখেছেন। তার স্ত্রী ও মেয়েরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন।

ফিফার নতুন ‘সুপার শাউটআউট’ ফিচারের মাধ্যমে দর্শকরা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের নাম বা বার্তা স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় প্রদর্শন করতে পারছেন। সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে ম্যাচ চলাকালে দু’বার স্টেডিয়ামের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে হাকান শুকুরের নাম।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রদর্শিত বার্তায় কোন আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিকর বিষয় থাকা যাবে না। ধারণা করা হচ্ছে, শুকুরের নামের রাজনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে আয়োজকদের কেউ অবগত না থাকায় সেটি সহজেই অনুমোদন পেয়ে যায়।

এদিকে তুরস্কে শুকুরের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তার সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি বাতিল করা হয়েছে, পাশাপাশি গ্যালাতাসারে ক্লাব থেকে তার সদস্যপদ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০০০ সালে ক্লাবটির ঐতিহাসিক উয়েফা কাপ জয়ের স্মৃতিচারণমূলক কিছু কনটেন্টেও তাকে এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিতর্ক, নির্বাসন এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও তুরস্কের ফুটবল ইতিহাসে হাকান শুকুরের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে হঠাৎ তার নামের আবির্ভাব সেই পুরনো স্মৃতিকে আবারও আলোয় নিয়ে এসেছে।

Scroll to Top