বিশ্বকাপ ২০২৬: গোল্ডেন বলের দাবিদার কারা? | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বকাপ ২০২৬: গোল্ডেন বলের দাবিদার কারা? | চ্যানেল আই অনলাইন

একদিন পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে। মহাযজ্ঞ সামনে রেখে পুরোদমে প্রস্তুত দেশগুলো, আলো ছড়াতে প্রস্তুত খেলোয়াড়রা। অনেকেই মাসাধিক আয়োজনের বিশ্বকাপ মাতিয়ে রাখবেন ফুটবল শৈলীতে। গোল ও মাঠের অবদানের ভিত্তিতে আসরে একজন হবেন সেরা, পাবেন গোল্ডেন বল পুরস্কার। কারা গোল্ডেন বলের দাবিদার হতে পারেন, তালিকা করেছে ফিফা। দেখে নেয়া যাক নামগুলো।

গোল্ডেন বল পুরস্কার পান টুর্নামেন্টজুড়ে সর্বোচ্চ স্তরের দক্ষতা, প্রভাব এবং নেতৃত্ব প্রদর্শনের জন্য। মাইকেল ওলিস, লামিন ইয়ামাল, হ্যারি কেন, ভিতিনহা, লুইস দিয়াজ, ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ, কাইলিয়ান এমবাপে, এনজো ফের্নান্দেজ, উসমানে ডেম্বেলে, ডেক্লান রাইস, রাফিনহা এবং ফেদেরিকো ভালভার্দের নাম এসেছে ফিফার সম্ভাব্যের তালিকায়। নেই দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম, নেই জার্মানির কোন নামও। সবচেয়ে বেশি ফ্রান্সের তিনজন আছেন।

বায়ার্ন মিউনিখে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো মাইকেল ওলিস ৩২ ম্যাচে ৩৬ গোলে অবদানে বুন্দেসলিগা এবং বিদেশে খেলে ফ্রান্সের বর্ষসেরা হয়েছেন গত মৌসুমে। ২৪ বর্ষী ফরাসি তারকার বাঁ-পায়ের শটে প্রতিপক্ষের জন্য বেশ বিপজ্জনক। যেকোনো অবস্থান থেকে তার শট জাদুর মতো কাজ করে! তার ড্রিবলিং দক্ষতা তুখোড়, যা ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে। ওলিস বড় মঞ্চে নিজেকে প্রদর্শন করে ফ্রান্সকে তৃতীয় বিশ্বকাপ এনে দিতে সাহয্য করতে পারেন।

বিশ্বকাপ ২০২৬: গোল্ডেন বলের দাবিদার কারা? | চ্যানেল আই অনলাইন

ফ্রান্সের আরেক তারকা কাইলিয়ান এমবাপে। ২৭ বর্ষী ফরাসি গত দুই বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষকে ভুগিয়েছেন। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পর এমবাপে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ২০২২ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন। তাকে ৯০ মিনিট আটকে রাখা দূরহ। সদ্যসমাপ্ত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে হয়ে ১৫ গোল করে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। ২০১৮ বিশ্বকাপ জিতেছেন, দ্বিতীয় জয়ের লক্ষ্যে আছেন, আসরের অন্যতম ফেভারিট তার দেশ। যার অন্যতম কারণ হল, এমবাপের অভিজ্ঞতা এবং অসাধারণ গোল করার দক্ষতা।

ফ্রান্সের আরেক ভরসার নাম উসমানে ডেম্বেলে। ২৯ বর্ষী ফরোয়ার্ড যেকোনো সময়ের চেয়ে ধারাবাহিক এখন। তার অবদানে ২০২৪/২৫ এবং ২০২৫/২৬ মৌসুমে পিএসজি টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ ওয়ান এবং ফ্রেঞ্চ কাপ জিতেছে। বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ীর নামটিও ডেম্বেলে।

স্পেন এবং বার্সেলোনার বিস্ময়বালক ১৮ বর্ষী লামিন ইয়ামাল। স্পেনকে ২০২৪ ইউরো জেতাতে সাহায্য করেছেন। বার্সার টানা দুই মৌসুমে লা লিগা জিততে অবদান রেখেছেন।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন ৩৬ গোল করে বুন্দেসলিগায় গত মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট ধরে রেখেছেন। বায়ার্নের ডাবল-জয়ী মৌসুমে ৩২ বর্ষী ফরোয়ার্ড গোলের চেয়েও বেশিকিছু করেছেন। পেছন থেকে খেলা তৈরি করা, খেলাকে সংগঠিত করা, অ্যাসিস্ট ও নিজের বক্সে শেষ মুহূর্তে কিছু রক্ষণাত্মক ভূমিকাও রেখেছেন। ২০২২ এবং ২০২৪ সালে টানা দুবার ইউরো ফাইনালে ইংল্যান্ডকে নিতে সাহয্য করেছেন।

২৬ বর্ষী ভিতিনহা কোচ লুইস এনরিকের অধীনে পিএসজিতে নিজেকে অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পিএসজিকে ইউরোপসেরা বানাতে বড় অবদান রেখেছেন পর্তুগিজ প্লেমেকার। বিশ্বকাপের আগে তার শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তিনি ক্লাবকে টানা দ্বিতীয় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতান। পর্তুগাল জার্সিতে ২০২৫ উয়েফা নেশন্স লিগ জিতেছেন।

২৯ বর্ষী লুইস দিয়াজ বায়ার্ন মিউনিখে প্রথম মৌসুমেই দুর্দান্ত খেলেছেন। কলম্বিয়ান তারকা সতীর্থ হ্যারি কেন ও কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির ভাষায়, “বিশৃঙ্খলা ভালোবাসেন”। দিয়াজের সবচেয়ে বড় শক্তি হল ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি সামলানো। তিনি বিস্ফোরক গতিতে দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলেন, তার গতি প্রতিপক্ষের পক্ষে অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। কলম্বিয়া যদি তাকে মাঠে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা দেয়, দিয়াজ বিশ্বকাপ প্রতিপক্ষের বিপদ হতে প্রস্তুত।

মার্কিন তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ আক্রমণাত্মক খেলার কারণে দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের আসরে তাকে নিয়ে অনেক আশা রয়েছে। দ্রুত গতি, দুপায়ে খেলার দক্ষতা ও গোলের দিকে সরাসরি এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে ২৭ বর্ষী তারকা দেশের সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারেন। ঘরের মাঠের সুবিধাও তাকে বাড়তি প্রেরণা দেবে।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড কৌশলী, মাঠের মাঝখানে বিভিন্ন ভূমিকায় খেলতে পারার অন্যতম একজন এনজো ফের্নান্দেজ। ২৫ বর্ষী বিশ্বকাপজয়ী বুদ্ধিদীপ্ত পাসের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। যে পাস ব্যবহার করে তিনি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করতে পারদর্শী। তিনি বর্তমান বিশ্বকাপজয়ী এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উত্তর আমেরিকায় এসেছেন। তার চারপাশে রয়েছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ সতীর্থ ও মহাতারকা লিওনেল মেসি।

২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছে আর্সেনাল। ক্লাবটির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মৌসুমে গোলের অন্যতম চাবিকাঠি ছিল ডেক্লান রাইসের কাছে। ২০২৫/২৬ মৌসুমে আর্সেনালের সাফল্যের কারণে আলোচনা ২৭ বর্ষী ইংলিশ তারকা রাইস। মাঠের দুপ্রান্তেই অপ্রতিরোধ্য শক্তির উতস তিনি। রাইসের জাতীয় দলের কোচ থমাস টুখেল সম্প্রতি বলেছেন, তার মানের খেলোয়াড় বিরল।

রাফিনহা প্রতিভাবান, আকর্ষণীয় ড্রিবলার এবং ফিনিশার হওয়ার পাশাপাশি বল দখলে থাকা অবস্থায় অবিশ্বাস্য মানসিকতা এবং আগ্রাসন ধরে রাখতে পারেন। ২৯ বর্ষী ব্রাজিলিয়ান বার্সেলোনার হয়ে টানা দুটি লা লিগা শিরোপা জিতেছেন। আসন্ন বিশ্বকাপে তিনি হতে পারেন ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম তুরুপের তাস।

রিয়াল মাদ্রিদের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা হলেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। ২৭ বর্ষী উরুগুয়ের তারকা দূর থেকে বল নিয়ে গোল করার ক্ষেত্রে দক্ষ। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এবং ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি একবার হুমকি দিয়েছিলেন, ভালভার্দে এক মৌসুমে ১০টি গোল করতে না পারলে তার কোচিং ব্যাজ ছিঁড়ে ফেলবেন। আসন্ন বিশ্বকাপে উরুগুয়ের মিডফিল্ডে অন্যতম ভরসার জায়গা থাকবেন ভালভার্দে।

এই তারকাদের মধ্যে একজনের হাতেই কেবল উঠবে গোল্ডের বল। বিশ্বকাপের পর্দা নামবে জুলাইয়ের ১৯ তারিখ, সেদিন জানা যাবে শেষ হাসি কার।

Scroll to Top