বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে পূর্বাভাস ও আগাম প্রস্তুতি জোরদারের তাগিদ | চ্যানেল আই অনলাইন

বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে পূর্বাভাস ও আগাম প্রস্তুতি জোরদারের তাগিদ | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে কার্যকর পূর্বাভাস ব্যবস্থা ও আগাম প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস ও প্রস্তুতি’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় এ মত তুলে ধরা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাক।

কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এটি দেশের অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বজ্রপাতে ৩ হাজার ৪৮৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার চেয়েও বেশি।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশে উচ্চ জনঘনত্বের কারণে কৃষক, শিশু-কিশোর ও নারীরা বজ্রপাতে মৃত্যুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। তাই এই ধরনের মৃত্যু কমাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পূর্বাভাস, সচেতনতা বৃদ্ধি ও বজ্রনিরোধক যন্ত্রসহ উপযুক্ত আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, তিন দিন আগে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বজ্রপাতে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগাম সতর্কবার্তা তখনই কার্যকর হয়, যখন তা অনুযায়ী সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী বলেন, পূর্বাভাসের সব তথ্য অবশ্যই সময়োপযোগী হতে হবে এবং প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাতে হবে। বজ্রপাতে মুত্যুহার কমাতে সময়মতো পূর্বাভাস প্রদান একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ জন্য সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক। তিনি বাংলাদেশের বজ্রপাতের প্রবণতা, ঝুঁকি ও পূর্বাভাস ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (রিমেক), ইউএনডিপি, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এবং ব্র্যাক-এর প্রতিনিধিরাও বজ্রপাত মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং ঝুঁকি হ্রাসে তাদের বর্তমান কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আলোচনায় বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা দুর্গম এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ এবং সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর করণীয় নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগই বজ্রপাতে প্রাণহানি কমানোর মূল চাবিকাঠি।

Scroll to Top