পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল থেকে স্পষ্ট হচ্ছে তৃণমূলের সীমাহীন দুর্নীতি, স্বৈরাচারী রাজত্ব, অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছেন। রাজ্যের জনগণ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতন চেয়েছেন। এই ক্ষোভের ফায়দা তুলেছে বিজেপি। মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।

সোমবার (৪ মে) এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এসআইআর-র মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা, বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো, প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উস্কানির ফলে একটি ভীতির আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছিল। এরই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের প্রচার চালানো হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলের তরফ থেকে। বিজেপি তারও সুযোগ নিয়েছে। এই নির্বাচনে বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তোলা হয়েছিল, সহযোগী হিসাবে আইএসএফ-ও ছিল, কিন্তু আমাদের ঐকান্তিক চেষ্টা সত্ত্বেও কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিকল্পের স্থানটি বিজেপি দখল করে নিতে পেরেছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় সারা দেশের অভিজ্ঞতায় আমরা জানি, বিজেপি একটি স্বৈরাচারী ও গণতন্ত্র-বিরোধী দল। তাদের জনবিরোধী ও গণতন্ত্র-বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য এ-রাজ্যের মানুষকে তৈরি থাকতে হবে। দীর্ঘ সময়ের পরে রাজ্য বিধানসভায় এবার বামপন্থী বিধায়ক থাকবেন। বিধানসভার মধ্যে ও বাইরে জনস্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাবার লক্ষ্যে সিপিআই(এম) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বামপন্থী কর্মীরা যে কোনো পরিস্থিতিতে মানুষের পাশেই থাকবেন।
নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক হিংসা, অশান্তির কোনো পরিবেশ যেন তৈরি না হয়, এবং তাকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের কাছে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। রাজ্যে আইনের শাসন কঠোর ভাবে বজায় রাখতে হবে।




