পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের মধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনো জালিয়াতি ও জালিয়াতি চক্র রুখতে শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেন্দ্র সরকার আরও কড়া সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) মধ্য রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা জানান।
ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, “বন্ধুরা, আমি জানি যে প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আর তাই গত আড়াই মাসে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, দোষীরা ধরা পড়েছে, তারা জেলে আছে। আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল ছাত্রছাত্রীদের একটি বছর যাতে নষ্ট না হয় তা নিশ্চিত করা।
মোদি বলেন, সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল যেন পরীক্ষার্থীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর নষ্ট না হয়। প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী যেন খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষা বা পরীক্ষার সুবিধা পায়, সে বিষয়ে সরকার নিরলস কাজ করেছে। যার ধারাবাহিকতায় গত ১৯ তারিখ পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে এবং সারা দেশ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাফল্যের খবর আসছে।
তবে ফলাফল প্রকাশ পেলেও সরকার এই পদক্ষেপে থেমে থাকছে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্রুত বিচারের স্বার্থে তিনি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট (স্বল্পমেয়াদী বিশেষ আদালত) গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং সহকর্মীদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী সোমবার থেকে পার্লামেন্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে এ সংক্রান্ত কঠোর আইনি বিলটি দ্রুত পাস করানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করবে সরকার।


