
ঢাকা, ৫ জুলাই – পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ভূরাজনীতি এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ‘চতুর্মাত্রিক’ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এখন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে সবার আগে ‘বাংলাদেশ নীতি’ ধারণ করা হচ্ছে। এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক অভেদ্য প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হবে।
আজ রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (PGR) গৌরবোজ্জ্বল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী এবং ‘বাংলাদেশ নীতি’ কী?
সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রথাগত ত্রিমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমান যুগে মহাকাশ কিংবা সাইবার স্পেসের মতো চতুর্থ মাত্রার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। রাষ্ট্রপতি জানান, সরকার দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে এই আধুনিক চতুর্মাত্রিক সক্ষমতায় রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর।
দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে সবার আগে আমরা ‘বাংলাদেশ নীতি’ ধারণ করছি। এই নীতির মূল কথাই হলো দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শক্তিশালী করা। আমাদের সেনাবাহিনীর সুনাম আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুবিদিত এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টও (পিজিআর) তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
সাইবার হামলা ও এআই (AI) এর অপব্যবহার রুখতে বিশেষ জোর
প্রথাগত যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে বর্তমান বিশ্বের অদৃশ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে সতর্ক করেছেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি ডিজিটাল বা প্রযুক্তিগত দুনিয়ায় নতুন নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন:
১. সাইবার হামলা (Cyber Attacks): রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখা।
২. এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অপব্যবহার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা অপরাধ বা প্রোপাগান্ডা রুখে দেওয়া।
৩. প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা হুমকি: ড্রোনের ব্যবহার ও আধুনিক প্রযুক্তির নানামুখী চ্যালেঞ্জ।
রাষ্ট্রপতি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এই আধুনিক ও অদৃশ্য চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যুগোপযোগী কার্যকর কৌশল গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
পিজিআরের সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, দেশের ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো জাতীয় সংকটে এই বাহিনী বরাবরের মতোই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবে।
এনএন/ ৫ জুলাই ২০২৬






