প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ভৈরবের নতুন কমিটি, পরিবেশ রক্ষায় কর্মপরিকল্পনা | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ভৈরবের নতুন কমিটি, পরিবেশ রক্ষায় কর্মপরিকল্পনা | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ভৈরব।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যক্ষ এ. কে. মোবারক আলী। সদস্য সচিব করা হয়েছে আলহাজ্ব জাহিদুল হক জাবেদ, যিনি চেম্বার অব কমার্স ভৈরবের প্রেসিডেন্ট।

কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রভাষক সেলিম মিয়া, মানিক চৌধুরী, মাহিন সিদ্দিকী ও লুবনা হক। যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহ আলম জনি, ইমরান হোসাইন ও সিরাত বেপারী।

এছাড়া ২৫ সদস্যের এ কমিটিতে রয়েছেন মফিজুল ইসলাম মাহফুজ, রাকিব হোসাইন, রিদয় আহমেদসহ অনেকে।

নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় প্রকৃতি সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে গণসচেতনতা তৈরি, বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রকৃতি বিষয়ক শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা।

নতুন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ এ. কে. মোবারক আলী এবং সদস্য সচিব আলহাজ্ব জাহিদুল হক জাবেদ জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ক্লাব সদস্যদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। ওই সভায় ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি সবার মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।

তারা আরও জানান, পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে স্কুল-কলেজ, বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার পাশে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণে জনগণকে উৎসাহিত করা হবে। শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করাও ক্লাবের অন্যতম লক্ষ্য।

‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ কর্মসূচিসহ প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের দেশব্যাপী সব কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে ভৈরবেও নিয়মিত পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়।

এদিকে, নতুন কমিটি ইতোমধ্যে একটি বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ কর্মসূচির আওতায় ভৈরবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকৃতি সংরক্ষণে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত প্রকৃতিবন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবুকে ভৈরবের মাটিতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইমপ্রেস গ্রুপের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় গবেষণা, জনসচেতনতা এবং মাঠপর্যায়ের নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ফাউন্ডেশনের অন্যতম উদ্যোগ চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত গবেষণাধর্মী ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান, যার মাধ্যমে দেশের মানুষকে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক প্রদান এবং পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব হলো প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের একটি অঙ্গসংগঠন। দেশের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করতে ক্লাবটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ক্লাবের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—পরিবেশ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন : পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ লাগানোর মাধ্যমে দেশের সবুজায়নে ভূমিকা রাখা। শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন: পরিবেশবিষয়ক কর্মশালা, সেমিনার, প্রকৃতিমেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক, কুইজ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন। প্রচার ও প্রকাশনা কার্যক্রম: প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ, দেয়ালপত্রিকা, ম্যাগাজিন ও বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি। সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম: পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি রক্তদান, চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও শীতবস্ত্র বিতরণের মতো মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন ও ক্লাবের মূল লক্ষ্য—প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে এক সুতোয় বেঁধে একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

Scroll to Top