
মুন্সিগঞ্জ, ১৬ মে – গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার পর থেকে নিখোঁজ থাকা প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার শেষ পরিণতি কি তবে পদ্মা নদীতেই হলো? মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ ঘিরে এখন এই জোরালো ধারণাই করছে পুলিশ। দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা ওই গণহত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতার লাশ উদ্ধারের এই খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গুগলের ট্রেন্ডিং পাতায় নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড় এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় এই অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের নৌ পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর হোসেন জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে লাশটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্থানটি প্রমত্তা পদ্মা সেতু থেকে মাত্র পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূরে। দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় মরদেহটি অনেকটাই বিকৃত ও অর্ধগলিত হয়ে গেছে।
মরদেহ উদ্ধারের পরপরই লৌহজং নৌ পুলিশ বিষয়টি গাজীপুর জেলা পুলিশকে অবহিত করে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও অবস্থান বিবেচনা করে গাজীপুর পুলিশ ধারণা করছে, এটি কাপাসিয়ার সেই বহুল আলোচিত পাঁচ খুনের মামলার প্রধান পলাতক আসামি ফোরকান মোল্লারই মরদেহ।
শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, মরদেহটি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গাজীপুরে পাঠানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহের ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করা হবে। ডিএনএ রিপোর্টের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটিই ঘাতক ফোরকান কি না।
গত কয়েকদিন ধরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাটি দেশের মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এরপর থেকেই প্রধান আসামি ফোরকানকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে এই সন্দেহভাজন লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পুলিশের এই ধারণাই যদি সত্যি হয়, তবে পাঁচ খুনের মূল রহস্যের জটলা কোন দিকে মোড় নেবে—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এখন সবার চোখ শুধুই ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টের দিকে।
এনএন/ ১৬ মে ২০২৬






