
ঢাকা, ১৬ মে – ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বীর শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অবশেষে আইনের জালে ধরা পড়লেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ বাচ্চু। আদালত কর্তৃক ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে পলাতক থাকা এই হাই-প্রোফাইল আসামিকে আজ শনিবার (১৬ মে) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই গ্রেপ্তারের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং দেশের ছাত্রসমাজের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেজবাহ উদ্দীন গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে শতভাগ নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল রাতে মোহাম্মদপুর এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আবু সাঈদ হত্যা মামলার ১ নম্বর চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ড. হাসিবুর রশীদ বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বর্তমানে তাকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে বুক পেতে দিয়ে নির্মমভাবে শহীদ হন ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পুরো বাংলাদেশ ফুঁসে ওঠে, যা পরবর্তীতে ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক সরকার পতনের পথ সুগম করে।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে পুলিশ ও তৎকালীন শাসকদলের ক্যাডারদের তাণ্ডব চালাতে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেন। এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় আদালত তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে উপাচার্যদের পদত্যাগের হিড়িক পড়ে। বেরোবি ক্যাম্পাসে খুনি উপাচার্যের গ্রেপ্তারের দাবিতে তীব্র আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তোপের মুখে পড়ে সরকার পতনের ঠিক চারদিন পর, অর্থাৎ ৯ আগস্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হন অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ। পদত্যাগের পর থেকেই তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন।
আজ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই প্রধান ঘাতক দোসর গ্রেপ্তার হওয়ায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে এক স্বস্তির হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই লিখছেন—”দেরিতে হলেও আবু সাঈদের রক্তের প্রতি ইনসাফ নিশ্চিত হচ্ছে।”
এনএন/ ১৬ মে ২০২৬






