নিলামের ঠিক আগের রাতেই বিমানবন্দরে আগুন! নেপথ্যে নাশকতার সন্দেহ – DesheBideshe

নিলামের ঠিক আগের রাতেই বিমানবন্দরে আগুন! নেপথ্যে নাশকতার সন্দেহ – DesheBideshe


নিলামের ঠিক আগের রাতেই বিমানবন্দরে আগুন! নেপথ্যে নাশকতার সন্দেহ – DesheBideshe

ঢাকা, ৬ জুন – হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে লাগা আগুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ঘন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ দুর্ঘটনা নাকি সুপরিকল্পিত কোনো নাশকতা—তা নিয়ে খোদ তদন্তকারীদের মনেই এখন মস্ত বড় প্রশ্ন। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে এমন কিছু অস্বাভাবিক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, যা এই অগ্নিকাণ্ডকে গভীর সন্দেহের আবরণে ঢেকে দিয়েছে। বিশেষ করে, যে কনটেইনারটিতে আগুন লেগেছে, সেটির পণ্যগুলো আগামীকাল রোববার (৭ জুন) নিলামে তোলার কথা ছিল! নিলামের ঠিক আগের রাতেই এমন কাণ্ড ছক কষে ঘটানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে তোলপাড় চলছে বিমানবন্দর এলাকায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে অন্তত পাঁচজনকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটককৃত ও জিজ্ঞাসাবাদের তালিকায় আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ‘ডিএইচএল’ (DHL)-এর কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটের কাছে কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় ডিএইচএলের একটি কনটেইনারে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে তদন্তের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। যে সুনির্দিষ্ট জায়গায় আগুন লেগেছে, রহস্যজনকভাবে সেই স্পটটি কোনো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার মধ্যে (কভারেজ এরিয়া) ছিল না!

প্রাথমিক অনুসন্ধানে অগ্নিকাণ্ডের উৎস নিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। কনটেইনারের একদম কাছে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং কিছু তারের অস্তিত্ব থাকলেও, সেখানে শর্ট সার্কিট হওয়ার কোনো সাধারণ আলামত বা পোড়া দাগ মেলেনি। এমনকি ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহও একদম স্বাভাবিক ছিল।

এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি সিগারেটের ফিল্টার বা অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যদিও ওই পুরো কার্গো এলাকাটি কঠোরভাবে ‘ধূমপান মুক্ত জোন’। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেটের আগুন থেকে সাধারণত ধিকিধিকি করে আগুন জ্বলে। কিন্তু ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার দূরবর্তী ফুটেজে দেখা গেছে, এখানে আগুন লেগেছে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে।

দূরবর্তী একটি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আগুন লাগার ঠিক আগমুহূর্তে ডিএইচএলের এক কর্মী ওই কনটেইনারের খুব কাছেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠার পরও তিনি বেশ কিছুক্ষণ স্রেফ সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন! এরপর তিনি বাকিদের বিষয়টি জানান। বিপদের মুখে ওই কর্মীর এমন অদ্ভুত ও ঠাণ্ডা মাথার আচরণ এখন গোয়েন্দাদের আতশ কাচের নিচে।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া কনটেইনারটিতে বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত কাপড়ের রোল, কাগজজাত পণ্য, রাবার ও প্লাস্টিকের মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষিত ছিল। শুল্ক নিয়ম অনুযায়ী, আগামীকাল রোববার এসব পণ্য উন্মুক্ত নিলামে তোলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। নিলামের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই অগ্নিকাণ্ড কোনো বড় চক্রের ‘প্রমাণ লোপাট’-এর চেষ্টা কি না, সেই আলোচনা এখন তুঙ্গে।

একই কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখার জায়গায় বারবার কেন আগুন লাগছে, তা নিয়ে বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও নজরদারি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবরও শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কোটি কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি পণ্য ছাই হয়ে গিয়েছিল। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগের ওই বড় দুর্ঘটনার পরও বিমানবন্দরের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান কোনো আধুনিক পরিবর্তন বা কড়াকড়ি আনা হয়নি।

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আগুনের প্রকৃত উৎস এবং কারণ উদ্‌ঘাটনে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। কারিগরি ত্রুটির পাশাপাশি এর পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী নাশকতা বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এনএন/ ৬ জুন ২০২৬



Scroll to Top