জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়কে ‘ধূমপান ও তামাকমুক্ত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করায় অধিদপ্তরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।
শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত ২ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী অধিদপ্তরের সব কার্যালয়ের অভ্যন্তর ও প্রাঙ্গণে ধূমপান এবং সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ধূমপান ও তামাকমুক্ত এলাকা’ সংবলিত সাইনেজ দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৮ জুন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উদ্যোগে এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধন) ২০২৬ অনুযায়ী জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অফিসসমূহ শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অধিদপ্তরের সব কার্যালয়কে শতভাগ তামাকমুক্ত ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় অফিস আদেশ জারির বিষয়ে আলোচনা হয়। মতবিনিময় সভায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে অধিদপ্তর অফিস আদেশ জারি করায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ জানায়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি কোনো পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে (যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করতে পারবেন না। সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করে সরকারি অফিস, কর্মস্থলের প্রাঙ্গণ, ভবনের বারান্দা, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ এবং ভবনসংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া, আইনের ধারা ৬খ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা শিশু ও তরুণদের তামাকের সহজলভ্যতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এ উদ্যোগ সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমরা আশা করি, অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এ উদ্যোগ অনুসরণ করে নিজ নিজ কর্মস্থলে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।



