শ্রীমঙ্গলের মেধাবী শিক্ষার্থী অর্কপ্রতীক আচার্যের নেতৃত্বে একটি বাংলাদেশি দল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পানির নিচের রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা ‘রোবোসাব–২০২৬’-এ অংশ নিচ্ছে। শনিবার (১১ জুলাই) শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত।
অর্কপ্রতীক বাংলাদেশের প্রথম আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক পানির নিচের রোবোটিক্স উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান দলনেতা। ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বর্তমানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রোবোটিক্সের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।
‘প্রজেক্ট পোসাইডন’স কোড’ নামে পরিচিত এ উদ্যোগের লক্ষ্য স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের রোবট বা অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (এএইউভি) প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে গত ৭ জুলাই দলের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় তারা নিজেদের উদ্ভাবিত পানির নিচের রোবোটিক্স প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে তরুণদের আরও এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করায় দলকে অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। পরে তিনি নিজের লেখা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বইটি দলের সদস্যদের উপহার দেন।
অর্কপ্রতীকের এ আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে শ্রীমঙ্গলে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এ অংশগ্রহণ দেশের তরুণদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্স গবেষণায় আরও আগ্রহী করে তুলবে।
অর্কপ্রতীক আচার্য বালাগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যাপক ও প্রখ্যাত ছড়াকার অবিনাশ আচার্য এবং আঁখি আচার্যের ছোট ছেলে।
এর আগে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণাভিত্তিক প্রতিযোগিতাতেও সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন অর্কপ্রতীক। তিনি ‘ড্রিমস অব বাংলাদেশ’ দলের সফটওয়্যার লিড হিসেবে নাসা আয়োজিত ‘হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জ–২০২৫’-এ অংশ নেন। ওই প্রতিযোগিতার জন্য দলের তৈরি ‘মাইরেজ–১’ চন্দ্র রোভারের সফটওয়্যার, সেন্সিং ও নেভিগেশন সিস্টেম উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রোভারটিতে ৩৬০ ডিগ্রি ম্যাপিং সক্ষম লাইডারভিত্তিক নেভিগেশন, উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছিল, যা বৈরী পরিবেশেও কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম।
দলের সদস্যদের প্রত্যাশা, রোবোসাব–২০২৬-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং তরুণ গবেষকদের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।



