১০ বছর বয়সী মেয়ে রুপা দাস ও ১৩ বছর বয়সী ছেলে জয় দাসকে জড়িয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ভারতী দাস। বুক ভেঙে কান্না আর বিলাপে তিনি বলছিলেন, ‘এ্যালা মুই কেমন করি বাঁচিম? ছোট ছাওয়া দুইটাক কায় খাওয়াইবে পড়াইবে? মোর নির্দোষ স্বামীক কেন মারিল, বেটিটার বিয়ার কী হইবে? মুই কোনটে যাইম, কী করিম? কার কাছোত বিচার চাইম?’
বড় মেয়ে নুপুর দাস (১৮) মায়ের গলা ধরে কাঁদছিলেন। তাঁর কণ্ঠেও অসহায়ত্বের হাহাকার, ‘এ্যালা কয় হামাক দ্যাখপে, কায় মাও কয়া দাকপে, হামরা যে এতিম হয়া গেইনো।’
ছেলে হারিয়ে বৃদ্ধ লালিচা দাস (রুপলালের মা) কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। প্রতিবেশীরা তাঁর মুখ ও মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরান। তারপরও কান্নাজড়ানো কণ্ঠে বলতে থাকেন, ‘মোর ছেলেটার দোষ কী? কেন ওক দাংগে মারিল? মোর বাবা তো কারও ক্ষতি করত না। হামাক দ্যাখপার যে আর কায়ও থাকিল না। যায় মোর ব্যাটাক মারছে, তাঁর বিচার চাও।’



