জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কুমামোতো জেলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনও মানুষ আটকা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে উদ্ধারকারী দল। আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সরকারের সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে) কিউশুর কুমামোতো জেলার উপকূলসংলগ্ন সাগরের প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। সাগরের অগভীর এলাকায় কেন্দ্র হওয়ায় কুমামোতোসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো জেলা। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে এখনও ৩৬ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া জেলার অধিকাংশ সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
রাতভর তল্লাশি চালিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বলে ধারণা করা একটি বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি শপিং মলের ধ্বংসস্তূপ থেকেও দুই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
আফটারশকের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ৩৬ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় এবং তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় বাসিন্দাদের মধ্যে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাসের এই শহরে উদ্ধার তৎপরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।



