জাপানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন: চীনকে যে বার্তা দিচ্ছে | চ্যানেল আই অনলাইন

জাপানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন: চীনকে যে বার্তা দিচ্ছে | চ্যানেল আই অনলাইন

জাপানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনকে ঘিরে চীনের প্রতি একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমস এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন-জাপান জোট একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ক্রমবর্ধমানভাবে ‘প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খল’ বরাবর ভূমি-ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এই শৃঙ্খল জাপান থেকে তাইওয়ান, ফিলিপাইন হয়ে বোর্নিও পর্যন্ত বিস্তৃত।

জাপানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন: চীনকে যে বার্তা দিচ্ছে | চ্যানেল আই অনলাইন

এই কৌশলের অংশ হিসেবে জাপানে মার্কিন টাইফন মাঝারি-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ওকিনাওয়া-ভিত্তিক ইউনিটগুলোর মাধ্যমে এনএমইএসআইএস জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাদিস বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবস্থাগুলো পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও তাইওয়ান অঞ্চলে চীনের সামরিক কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে এবং বেইজিংকে একই ধরনের ‘অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ’-এর মুখোমুখি করছে, যা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চীন চাপিয়ে আসছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জাপানে মার্কিন টাইফন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির সম্ভাবনা। এটি মহড়া শেষে সরিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে পূর্ববর্তী নীতির পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টাইফন সিস্টেমের টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য মোবাইল প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে একটি স্তরযুক্ত আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে, যা চীনের উপকূলীয় অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করার সক্ষমতা রাখে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ১৯৮৭ সালের আইএনএফ (ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস) চুক্তি বাতিলের পর মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি। ওই চুক্তির পর দীর্ঘদিন মার্কিন স্থলভিত্তিক মাঝারি-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন সীমিত ছিল।

এদিকে, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের যৌথ মহড়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয়কে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরোধ কাঠামো গঠনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একাধিক সামুদ্রিক রুটে চীনের নৌ-অভিযানকে জটিল করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের মোতায়েন একদিকে যেমন প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়, অন্যদিকে তা উত্তেজনা ও ভুল হিসাবের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করতে পারে। চীন এর জবাবে আরও সামরিক মহড়া, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন এবং ‘গ্রে-জোন’ কার্যক্রম বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Scroll to Top