জাপানের নিকটবর্তী আকাশসীমায় যৌথ কৌশলগত আকাশ টহল পরিচালনা করেছে চীন ও রাশিয়া। এর জবাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে জাপান।
রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশসীমায় যৌথ কৌশলগত আকাশ টহলের অংশ হিসেবে বোমারু ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে চীন ও রাশিয়া।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে এটি ছিল ১১তম দূরপাল্লার যৌথ টহল। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের সংকল্প ও সক্ষমতার প্রদর্শন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অন্যদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চীনা ও রুশ সামরিক বিমানের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এ সময় জাপানের যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়।
জাপানের তথ্য অনুযায়ী, যৌথ টহলে চারটি চীনা এইচ-৬ বোমারু বিমান, দুটি রুশ টিইউ-৯৫ বোমারু বিমান, দুটি রুশ টিইউ-১৪২ টহল বিমান, দুটি চীনা জে-১৬ যুদ্ধবিমান এবং একটি রুশ এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা যায়, কয়েকটি বোমারু বিমান ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের কাছে মিয়াকো প্রণালী অতিক্রম করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করে এবং পরে একই পথে ফিরে যায়।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় সফররত জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি যৌথ টহল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, চীন ও রাশিয়ার বারবার যৌথ বোমারু বিমান টহল জাপানের আশপাশে তাদের সামরিক কার্যক্রমের বিস্তার ও তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এটিকে জাপানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, একই দিনে ১০টিরও বেশি চীনা ও রুশ সামরিক বিমান দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে (এডিআইজেড) প্রবেশ করলে সিউলও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। তবে কোনো বিদেশি বিমান দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেনি।
এর আগে গত ডিসেম্বরেও চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে বোমারু ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে একই ধরনের দূরপাল্লার কৌশলগত আকাশ টহল পরিচালনা করেছিল।




