
নিউইয়র্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর – জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে আবারও নিজের রুক্ষ ও আক্রমণাত্মক অবস্থান স্পষ্ট করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) একটি “নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া প্রতিষ্ঠান” বলে তীব্র সমালোচনা করে এর সব সদস্য রাষ্ট্রকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র তার কোনো সামরিক সদস্য বা নাগরিককে এমন কোনো আদালতের বিচার কিংবা তদন্তের মুখোমুখি হতে দেবে না, যার ওপর ওয়াশিংটনের কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করবেন না উল্লেখ করে আইসিসি-র কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তোলেন।
শুধু আইসিসি-ই নয়, ট্রাম্পের আক্রমণের মুখে পড়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোও। বিশ্বজুড়ে ঘটা মূল সংকট ও নৃশংসতার দিকে নজর না দিয়ে সংস্থাগুলো অনর্থক মার্কিন অভ্যন্তরীণ নীতির সমালোচনা করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে দুটি মূল বিষয় তুলে ধরে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন:
মার্কিন নীতির ওপর সমালোচনা: জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিশ্বের প্রকৃত মানবিক বিপর্যয় ও বৈশ্বিক সংকটগুলো উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত নীতি এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর মার্কিন উদ্যোগগুলোর অযাচিত সমালোচনা করছে।
খ্রিস্টান নিপীড়নে নীরবতা: বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ওপর ক্রমাগত শারীরিক ও সামাজিক নিপীড়ন চালানো সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিস্ফোরক বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের সমর্থকরা একে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বলিষ্ঠ প্রকাশ হিসেবে দেখলেও, কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের প্রতি ট্রাম্পের এমন অনীহা বহু পাক্ষিক বৈশ্বিক নীতি ও বিচার ব্যবস্থার ভিত্তিকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে।
এনএন/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬



