‘ছোট’ দলের বড় গোলকিপার

‘ছোট’ দলের বড় গোলকিপার

৪০ বছর ১২ দিন বয়সী ভোজিনিয়া আরেকটা রেকর্ডও গড়েছেন, নিজের দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলা সবচেয়ে বয়সী খেলোয়াড়। এই রেকর্ডটা এর আগে মাত্র এক দিনের জন্য ছিল যাঁর, তিনিও গ্লাভস হাতে এই বিশ্বকাপে আরেক প্রাচীর। ৩৭ বছর বয়সী কুরাসাও গোলরক্ষক এলয় রমকে হয়তো আপনি চিনতেন না, পরশু ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের পর চিনেছেন নিশ্চিতভাবেই। ওই ম্যাচে করেছেন ১৬টি সেভ—বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৯০ মিনিটের ম্যাচে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। রম সেদিন বলছিলেন, মাঠে নামার পর এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস পেয়ে বসেছিল তাঁকে, কেন যেন মনে হচ্ছিল সেদিন তাঁকে ভেদ করে গোল করার সাধ্য আর কারও নেই। ভোজিনিয়ার মতোই ‘ভাইরাল’ হয়ে গেছেন রমও, এক দিনের মধ্যেই তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারী এক লাখ থেকে বেড়ে হয়ে গেছে ১০ লাখের বেশি। অথচ তাঁর দেশ কুরাসাওয়ের জনসংখ্যাই মাত্র দেড় লাখ!

ইরানের জনসংখ্যা অবশ্য এর চেয়ে অনেক বেশি, তবে বেইরানভান্দ অনন্য অনেক কারণে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সাতটি সেভ করে হয়েছেন ম্যাচসেরা। বিশেষ করে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাংক’ দূরত্ব থেকে যেভাবে বেলজিয়ামের ম্যাক্সিম ডি কুইপারের শট ফিরিয়ে দিয়েছেন, সেটি ঢুকে গেছে এই বিশ্বকাপের সেরা সেভগুলোর ছোট্ট তালিকায়। জীবনটাও কী সংগ্রামী! কিশোর বয়সে যখন জীবিকার অন্বেষণে তেহরানে এসেছিলেন, পকেট শূন্য, থাকার জায়গা নেই। কুর্দি যাযাবর পরিবারের ছেলে বেইরানভান্দ নাফত তেহরান ক্লাবের গেটের সামনে ঘুমাতেন, গাড়ি ধোয়ার কাজ করতেন, কখনোবা পিৎজার দোকানে। একদিন ক্লাব তাঁকে সুযোগ দিল। এরপর যেমন বলা হয়, বাকিটা ইতিহাস।

Scroll to Top