জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম ও ‘গেস্টরুম সংস্কৃতির’ অবসান হয়েছে। এখন আলোচনা হচ্ছে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি কেমন হবে, এর আওতা কতটা থাকবে—এসব বিষয়ে। ক্যাম্পাসের পাশাপাশি আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতির ‘রূপ’ কেমন হবে, এ নিয়েও নানা তর্কবিতর্ক চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে, এমন প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
ছাত্ররাজনীতির নামে ক্যাম্পাসে, হলে কারও দখলদারত্ব চলুক—এটি চান না শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগ (এখন নিষিদ্ধ) যেভাবে ‘গেস্টরুম সংস্কৃতির’ নামে হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালাত, জোরপূর্বক মিছিলে যেতে বাধ্য করত—সেই সব দিনে আর কেউ ফেরত যেতে চান না। একইভাবে ক্যাম্পাসে–হলে ‘গুপ্ত রাজনীতিরও’ বিরুদ্ধে তাঁরা। প্রচলিত ও গতানুগতিক ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তন চান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
প্রচলিত ছাত্ররাজনীতির সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাসরুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রনেতারা শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধুই দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করে। ডাকসু হলে সেই জায়গায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছি।’
ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে গতকাল ক্যাম্পাসে গিয়ে বিভিন্ন বিভাগ ও বর্ষের ১৮ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। শিক্ষার্থীদের চাওয়া, ছাত্ররাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসুক। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে এই কাজটি শুরু হতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা।
প্রচলিত ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিন দলীয় আধিপত্য, সহিংসতা ও দখলদারত্বে সীমাবদ্ধ ছিল মনে করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সুস্মিতা মুন্সি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দলমুক্ত, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু হওয়া দরকার। গণ-অভ্যুত্থানের পর এই সুযোগ এসেছে। এবারের ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।



