চাঁদ দূরে সরে গেলে পৃথিবীর কী কী পরিবর্তন হবে

কোটি কোটি বছর আগের প্রবাল জীবাশ্ম ঘেঁটে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, আজ থেকে প্রায় ১৮০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এক বছর হতো ৪৮৫ দিনে! তখন পৃথিবী অনেক জোরে ঘুরত, আর এক দিন পার হতো মাত্র ১৮ ঘণ্টায়। এভাবেই চলতে থাকলে, আজ থেকে প্রায় ১০০ কোটি বছর পর পৃথিবীর এক দিন হবে ২৭ ঘণ্টার। আর চাঁদ মামা আমাদের ছেড়ে আরও ১০ শতাংশ দূরে, অর্থাৎ প্রায় ৪ লাখ কিলোমিটার দূরে গিয়ে বসবে। যারা কাজের চাপে সারাদিন হা-হুতাশ করেন যে ‘২৪ ঘণ্টায় দিন না হয়ে আরেকটু বেশি হলে ভালো হতো’, তাদের জন্য এটা সুখবর হতে পারত, যদি না তারা ১০০ কোটি বছর আগে জন্মাতে পারতেন!

১০০ কোটি বছর পরের পৃথিবীটা কিন্তু মোটেও শান্তশিষ্ট থাকবে না। কারণ তখন সূর্যমামা রীতিমতো ভিলেনের রূপ ধারণ করবে। সূর্যের উজ্জ্বলতা এখনকার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যাবে। আমরা যদি এর আগেই নিজেদের পরিবেশ ধ্বংস করে বিলুপ্ত না হই, তবে ওই বাড়তি রোদের তাপে পৃথিবীতে এক ভয়ংকর গ্রিনহাউস ইফেক্ট শুরু হবে। ফলাফল? পৃথিবীর সব মহাসাগরের পানি চায়ের কেটলির মতো টগবগ করে ফুটে পুরোপুরি উবে যাবে!

সাগরের পানি শুকিয়ে গেলে চাঁদের জন্য আরেক বিপদ। এত দিন ধরে সমুদ্রের পানির যে বিশাল ঘর্ষণ চাঁদকে দূরে ঠেলে দিচ্ছিল, পানি না থাকায় সেই ঘর্ষণটাই আর থাকবে না। পৃথিবীর শক্ত পাথরগুলো তো আর পানির মতো চাঁদের টানে ফুলে উঠবে না। ফলে চাঁদের দূরে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রায় পুরোপুরি থমকে যাবে। পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্যও আটকে যাবে ওই ২৭ ঘণ্টাতেই।

আরও প্রায় ৪০০ কোটি বছর পর সূর্য আকৃতিতে এতই বড় হয়ে যাবে যে, পৃথিবী ও চাঁদকে হয়তো আস্ত গিলে ফেলবে। যদি গিলে নাও খায়, অন্তত এদের পৃষ্ঠের সবকিছু পুড়িয়ে একদম গলিত লাভা বানিয়ে ছাড়বে। সেই ভয়াবহ সময়ে চাঁদ আবার দূরে সরে যেতে পারে, কিন্তু তখন পৃথিবীর বুকে এসব দেখার জন্য কোনো মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণী বেঁচে থাকবে না। হয়তো ৬০ কোটি বছর পর ইঁদুরের মতো দেখতে বুদ্ধিমান কোনো প্রাণী পৃথিবীর দখল নেবে, কিন্তু তাদেরও চাঁদের এই দূরে সরে যাওয়া নিয়ে মাথাব্যথার কোনো কারণ থাকবে না।

Scroll to Top