পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকেই পাঞ্জাবের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হচ্ছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) লাহোরে আয়োজিত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিষয়ক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মরিয়ম নওয়াজ বলেন, ত্রিদেশীয় সীমান্ত এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোর সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে নিরাপত্তা হুমকি আসছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় যৌথ চেকপোস্টগুলো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ নির্মূলে সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগানো হচ্ছে।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে বিভিন্ন চেকপোস্টে নিরাপত্তাকর্মীরা সন্ত্রাসীদের হামলায় ব্যাপক হতাহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের কাছে পুলিশের তুলনায় উন্নত অস্ত্র, নাইট-ভিশন সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ছিল। তবে এখন চেকপোস্টগুলোতে বুলেটপ্রুফ সুরক্ষা, থার্মাল ইমেজিং এবং নাইট-ভিশন ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে নিরাপত্তাকর্মীদের হতাহতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
শান্তি বজায় রাখতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে উল্লেখ করে মরিয়ম বলেন, যেখানে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাস ও অপরাধের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নদীতীরবর্তী কাঁচা এলাকাগুলো পুরোপুরি অপরাধমুক্ত করা হয়েছে। তার দাবি, পাঞ্জাবে অপরাধের হার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। উন্নয়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মরিয়ম নওয়াজ বলেন, ‘রাস্তা ও বিভিন্ন প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু কারও গবাদিপশু, মোটরসাইকেল বা গাড়ি চুরি হয়ে গেলে কিংবা কোনো দরিদ্র মানুষ তার সঞ্চয় হারালে এসব উন্নয়নের কী লাভ?’
দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। ‘সুত্থরা পাঞ্জাব’ কর্মসূচিতে দুর্নীতি শনাক্ত হওয়ার পর কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
নাগরিকদের দুর্নীতির অভিযোগ জানানোর জন্য একটি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি নির্মূলে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের কার্যক্রম নজরদারিতে রাখতে তাদের বডি ক্যামেরাও দেওয়া হয়েছে।
মরিয়ম বলেন, ‘দুর্নীতি যদি ১০০ রুপিরও হয়, আমরা সেটিও অনুসরণ করব। যেখানে দুর্নীতি থাকবে, সেখানে কোনো ক্ষমা করা হবে না।’
কিছু গোষ্ঠী ধর্মকে ব্যবহার করে ঘৃণা ছড়িয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে পুলিশকে তাদের অন্যান্য দায়িত্ব থেকে মনোযোগ সরিয়ে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে মহররম, ঈদে মিলাদুন্নবীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপরাধ কোনোভাবেই আর সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।
অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে মরিয়ম বলেন, হকারদের শুধু উচ্ছেদ করা হয়নি, তাদের জীবিকার জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। হেলমেট আইন ও সড়কে লেন শৃঙ্খলা কার্যকর করা শুরুতে কঠিন হলেও এখন পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে পথচারীদের ট্রাফিক নিয়ম ও সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিজের ব্যক্তিগত দায়িত্ব উল্লেখ করে মরিয়ম নওয়াজ বলেন, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি এ দায়িত্ব পালন করে যাবেন। পাঞ্জাবকে প্রযুক্তিনির্ভর প্রদেশে পরিণত করতে ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি সরকারের ওপর আস্থা না রাখে, তাহলে আমরা পিছিয়ে পড়ব।’
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…