চা–শ্রমিকদের সম্মানে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে সিলেট বন্ধুসভা। পয়লা মে সন্ধ্যায় নগরীর অদূরে লাক্কাতুরা চা-বাগানে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে লাক্কাতুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবলি তানবুল বলেন, সুষ্ঠ ও সম–অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। চা-বাগানে এমন আয়োজন করার ফলে বাগানের শিশুদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং তারা অনুপ্রাণিত হবে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সিলেট বন্ধুসভার বন্ধুরা ছাড়াও চা-বাগানের শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। ছয় শিশু কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের শোনায়। অন্য শিশুরা নাচ, গানসহ বিভিন্ন সহকার্যক্রমে অংশ নেয়। কৌতুক প্রদর্শন করেন বন্ধু জামিউল হোসেন। একক নৃত্য পরিবেশন করেন বন্ধু রায় ধীমহি ও মিনথিয়া রহমান। সঞ্চালনা করেন বন্ধু প্রত্যাশা তালুকদার ও আহসানউল্লাহ খান।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চা-বাগানের শিশুদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুরাধা তানবুল বলে, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করতে পেরে আমি খুব খুশি। এমন অনুষ্ঠান যেন আমাদের বাগানে আরও হয়।’
শেষে নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তিতে অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে উপহার হিসেবে বই তুলে দেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক অম্লান রায়।
বন্ধু প্রসেনজিৎ ছত্রী বলেন, এমন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শিশুদের মানসিক বিকাশে সাহায্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন করবে।

সমাপনী বক্তব্যে সহসভাপতি শ্রেয়ান ঘোষ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সবার মধ্যে সাম্য ও একতার বাণী পৌঁছে দিতেই আজ আমাদের এ আয়োজন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সামাজিক সংগঠন হিসেবে আমাদের দায়বদ্ধতা।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, শেখ ফয়সাল আহমেদ, প্রণব তালুকদার, শুভ তালুকদার, সৌম্য মন্ডল, অনুপমা দাস, সমরজিৎ হালদার ও সুমন দাস।
জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা



