কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি ধরল এআই প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ বলে দামী গাড়ি আমদানি | চ্যানেল আই অনলাইন

মোংলা বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণা দিয়ে তিন থেকে চারটি বড় খণ্ডে কেটে আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার ও টয়োটা। শুল্ক ফাঁকি দিতে এসব গাড়িকে যন্ত্রাংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারে চালানটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

এনবিআর জানিয়েছে, চালানে হেডলাইট, ব্যবহৃত দরজা, সাসপেনশন শক অ্যাবজরভার, টেইল লাইট, এয়ার ক্লিনার বক্স, রাবার চ্যানেল ও স্টিয়ারিং হুইলের মতো গাড়ির যন্ত্রাংশ রয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন আমদানিকারক। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায়, আস্ত গাড়িগুলোকে মাত্র তিন থেকে চারটি বড় অংশে কেটে সেমি নকড ডাউন বা সিকেডি অবস্থায় আনা হয়েছে।

চালানটিতে থাকা গাড়িগুলোর শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা। অথচ এনবিআরের হিসাবে চারটি গাড়ির সম্ভাব্য মোট বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

চালানটিতে থাকা গাড়িগুলো হলো ২০১৭ সালের যুক্তরাজ্যে তৈরি রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১৬ সালের জাপানি লেক্সাস এলএক্স৫৭০, ২০১০ সালের জার্মানির বিএমডব্লিউ ৬৫আই এবং জাপানে তৈরি টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট।

তদন্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশে রেঞ্জ রোভার ভোগটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। লেক্সাস এলএক্স৫৭০-এর মূল্য প্রায় ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বিএমডব্লিউ ৬৫আই-এর দাম ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ টাকা এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেটের দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা।

ছবি: মোংলা বন্দরে জব্দ করা সিকেডি অবস্থায় বিলাসবহুল গাড়ি।

গাড়িগুলো আমদানি করেছে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস।

গত জুলাইয়ে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়ার পর চালানটি স্থগিত করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়। পরে ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার সময় বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়। পণ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা বা খোদাই করা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণের পাশাপাশি এআইয়ের সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, গাড়িগুলোর শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী শুল্ক-কর আরোপ করা হবে। এরপর আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটিকে বড় অঙ্কের সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে এনবিআর। তবে চূড়ান্ত রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ যথাযথ শুল্কায়ন শেষে নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় মোংলা কাস্টম হাউসকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে।

গাড়ি আমদানিতে আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, অগ্রিম কর, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কসহ বিভিন্ন ধরনের কর দিতে হয়। বিশেষ করে দামি ও বেশি সিসির গাড়িতে সম্পূরক শুল্কের হার বেশি। সিসিভেদে গাড়ির ওপর ৩০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক আরোপ হতে পারে। এসব শুল্ক ফাঁকি দিতে গাড়িকে যন্ত্রাংশ হিসেবে দেখানোর মতো কৌশল নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

Scroll to Top