নরম বান, রসালো মাংসের প্যাটি, গলতে থাকা চিজ, লেটুস, টমেটো আর মেয়োনিজ। সঙ্গে পছন্দের সস। সামনে এমন একটি বার্গার এলে ক্ষুধা না থাকলেও অনেকেরই খেতে ইচ্ছে করে। আর আজ সেই বার্গারপ্রেমীদের জন্য বিশেষ দিন, ‘ন্যাশনাল বার্গার ডে’ বা জাতীয় বার্গার দিবস।
প্রতি বছর আগস্টের শেষ বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। কোথাও থাকে বিশেষ ছাড়, কোথাও সীমিত সংস্করণের বার্গার। আবার কেউ কেউ শুধু প্রিয় বার্গারের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েই দিনটি উদযাপন করেন।
ফাস্টফুডের দুনিয়ায় বার্গার এখন শুধু একটি খাবার নয়, অনেকটা বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশ। সাধারণ চিজ বার্গার থেকে স্ম্যাশ বার্গার, ভেজি বার্গার থেকে ক্রাফট বার্গার, সময়ের সঙ্গে বদলেছে এর স্বাদ ও ধরন। উপকরণেও এসেছে নানা বৈচিত্র্য। গরু বা মুরগির মাংসের প্যাটির পাশাপাশি মাছ, সবজি ও নানা ধরনের উদ্ভিজ্জ উপাদান দিয়েও তৈরি হচ্ছে বার্গার।
জাতীয় বার্গার দিবসকে ঘিরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফুড চেইন ও রেস্তোরাঁয়ও চলছে বিশেষ আয়োজন। ফাইভ গাইজ ও শেক শ্যাকের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ছাড়, ‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ ধরনের অফার এবং সীমিত সময়ের বিশেষ বার্গার নিয়ে হাজির হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিবসটি ঘিরে দেখা যায় আলাদা ব্যস্ততা। #NationalBurgerDay হ্যাশট্যাগে নিজেদের পছন্দের বার্গারের ছবি, রিভিউ ও রেস্তোরাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন অনেকে। কারও পছন্দ অতিরিক্ত চিজ, কেউ আবার ঝাল সস ও ক্রিসপি প্যাটির ভক্ত। বার্গার নিয়ে পছন্দের তালিকাটাও যেন একেকজনের একেক রকম।
তবে এই জনপ্রিয় খাবারের ইতিহাস বর্তমান সময়ের চেয়ে অনেক পুরোনো। ইতিহাসবিদদের মতে, মাংসকে রুটির সঙ্গে খাওয়ার ধারণার শিকড় প্রাচীন রোম পর্যন্ত পৌঁছায়। মধ্যযুগেও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে রুটির সঙ্গে মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল।
আধুনিক বার্গারের সঙ্গে অবশ্য এসব খাবারের সরাসরি মিল নেই। আমরা যে গোল বানের মধ্যে মাংসের প্যাটি দিয়ে তৈরি বার্গার চিনি, তার জনপ্রিয়তা মূলত উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকে। দ্রুত পরিবেশন করা যায়, হাতে নিয়ে খাওয়া যায় এবং নানা উপকরণে নিজের মতো করে সাজানো যায়, এসব কারণেই খাবারটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এরপর বার্গার ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে। স্থানীয় স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে তৈরি হয় নতুন নতুন ধরন। কোথাও এতে যোগ হয় ঝাল মসলা, কোথাও স্থানীয় চিজ বা সস। ফলে একই নামের খাবার হলেও দেশভেদে বার্গারের স্বাদে তৈরি হয়েছে বড় পার্থক্য।
আজকের দিনে তাই বার্গার কোনো একটি দেশের খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন বিশ্বজুড়ে তরুণদের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। ব্যস্ত দিনের দ্রুত লাঞ্চ, বন্ধুদের আড্ডা কিংবা ছুটির দিনের আয়েশ, নানা উপলক্ষেই জায়গা করে নিয়েছে এই খাবার।
জাতীয় বার্গার দিবসের মূল উপলক্ষও তাই খুব সহজ। প্রিয় খাবারটি নিয়ে একটু আনন্দ করা। পছন্দের বার্গারটি অর্ডার করা, নতুন কোনো স্বাদ চেষ্টা করা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়া। আজকের দিনটি বার্গারপ্রেমীদের জন্য সেই ছোট্ট আনন্দটুকু উদযাপনেরই উপলক্ষ।