উত্তরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা: দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ওপরে, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট – DesheBideshe

উত্তরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা: দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ওপরে, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট – DesheBideshe


উত্তরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা: দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ওপরে, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট – DesheBideshe

রংপুর, ৩০ জুন – উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা ও দুধকুমারসহ প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি এবং কোনো কোনো পয়েন্টে ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

রংপুরের পীরগাছা ও কাউনিয়া এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে গেছে।

ইতোমধ্যে নীলফামারীর ডালিয়া ও রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করার উপক্রম হওয়ায় সংলগ্ন এলাকায় লাল সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

চরাঞ্চলের নিচু জমিতে থাকা বাদাম, আমন ধানের বীজতলা এবং বিভিন্ন শীতকালীন সবজিখেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সেখানে তিস্তার পানি বেড়ে সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি চর প্লাবিত হয়েছে। লক্ষ্মীটারী, কোলকোন্দ, নোহালী ও মর্ণেয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পাট ও ধানখেতের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি তিস্তা সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধের কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরীতে দুধকুমার নদের পানি গত ১৮ ঘণ্টায় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের লোকালয়গুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে।

দক্ষিণ তিলাই গুচ্ছগ্রাম ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙনের মুখে রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানিও নুনখাওয়া ও অন্যান্য পয়েন্টে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। চরাঞ্চলের বহু বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছে জেলা প্রশাসন।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন এই অঞ্চলে আরও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে।

এনএন/ ৩০ জুন ২০২৬



Scroll to Top