ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী র্যান্ডি জর্জকে অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। চলমান আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তার দায়িত্ব ছাড়ার এ ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পরাজয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বরং প্রশাসনের সামরিক নেতৃত্ব পুনর্গঠন, নীতিগত সমন্বয় এবং উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বে পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বর্তমান প্রশাসন এমন একটি সামরিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাইছে, যারা সরকারের নিরাপত্তা কৌশল ও প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে কাজ করবে। র্যান্ডি জর্জ পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ফলে নতুন প্রশাসনের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি আগে থেকেই আলোচনায় ছিল।
এদিকে র্যান্ডি জর্জের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রিস্টোফার লানিভকে। প্রশাসনের সঙ্গে তার সমন্বয় আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ইরান যুদ্ধে পরাজয়ের কারণে সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে’- এমন দাবির সত্যতা এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও সেনাপ্রধান পরিবর্তনের কারণ হিসেবে যুদ্ধে ব্যর্থতার কোনো উল্লেখ করেনি।
তবে সামরিক সংঘাতের সময় সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের ঘটনা কৌশলগত সিদ্ধান্ত, বাহিনীর মনোবল এবং ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।



