ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর দেওয়ানবাগ শরীফে লক্ষাধিক আশেকে রাসুলের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ১৫০১তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই র্যালির আগে দেওয়া বক্তব্যে মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ করে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের আহ্বান জানান।
এর আগে দিনব্যাপী ‘আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন দরবারের পীর সাহেবদের পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে কুদরত এ খোদা হুজুর বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আশেকে রাসুলদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিন। মুসলিম জাতি দীর্ঘদিন এই আনন্দ উদযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। তাদের মধ্যে ধারণা ছিল, হযরত রাসুল (সা.) একই দিনে জন্ম ও ওফাত লাভ করেছেন।
তিনি বলেন, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সংস্কারক সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) ঐতিহাসিক দলিলের মাধ্যমে এই ধারণার সংশোধন করেন। তার দাবি অনুযায়ী, হযরত মোহাম্মদ (সা.) ১ রবিউল আউয়াল ওফাত লাভ করেন এবং ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন।

কুদরত এ খোদা বলেন, এই কারণেই মুসলিম জাতি এখন মহানবী (সা.)-এর জন্মদিনে আনন্দ উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) ইসলামে শতাধিক সংস্কার করেছেন। তার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন শুরু করেছে বলেও তারা দাবি করেন।
সম্মেলনে দেশবরেণ্য আলেমদের পাশাপাশি বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. ফারুক (এম. ফারুক), নজরুল গবেষক ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জাকির হোসেন, কলাম লেখক ও গবেষক ড. মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন সোহেল, জাতীয় আইন কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান মিয়া এবং হযরতুল আল্লাম মুহাদ্দিস এমরান হোসাইন মাজহারীসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।