কবিতা হঠাৎ আসে, নাকি বানাতে হয়?

তবে এর একটা মূল্যও আছে—এই কবিতা সহজে হৃদয় ছোঁয় না, প্রথম পাঠে দূরত্ব তৈরি করে। পাঠককে এখানে প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হয়, নইলে কবিতা তার দরজা খোলে না। তাই এই কবিতার উপযোগিতা তাৎক্ষণিক আবেগমুক্তিতে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বৌদ্ধিক সমৃদ্ধিতে—যেমন জটিল কোনো সংগীত রচনা বারবার শুনে তবেই তার স্তরগুলো ধরা পড়ে, তেমনি পাণ্ডিত্যপূর্ণ কবিতাও বারবার ফিরে পড়ার দাবি রাখে, আর প্রতিবার ফেরায় নতুন কিছু উন্মোচিত হয়।

ও যখন প্রতিরাত্রে মুখে নিয়ে এক লক্ষ ক্ষত

আমার ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ফিরে আসে ঘরে

দাঁড়ায় দুয়ারপ্রান্তে সমস্ত বিশ্বের স্তব্ধতায়

শরীর বাঁকিয়ে ধরে দিগন্তের থেকে শীর্ষাকাশ

আর মুখে জ্বলে থাকে লক্ষ লক্ষ তারার দাহন

অবলম্বনহীন ওই গরিমার থেকে ঝুঁকে পড়ে

মনে হয় এই বুঝি ধর্মাধর্মজ্ঞানহীন দেহ

মুহূর্তে মূর্ছিত হলো আমার পায়ের তীর্থতলে—

শূন্য থেকে শূন্যতায় নিরাকার অস্ফুট নিশ্বাস

মধ্যযামিনীর স্পন্দে শব্দহীন হলো, তখনও সে

দূর দেশে দূর কালে দূর পৃথিবীকে ডেকে বলেঃ

এত যদি ব্যুহ চক্র তীর তীরন্দাজ, তবে কেন

শরীর দিয়েছ শুধু বর্মখানি ভুলে গেছ দিতে!

[বর্ম/শঙ্খ ঘোষ]

Scroll to Top