
তেহরান, ১ মে – ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনে যে রাষ্ট্রগুলো সহযোগিতা করেছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে ইরাভানি উল্লেখ করেন, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত এবং জর্ডান পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ উপেক্ষা করে একপাক্ষিক অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে যে অবৈধ হামলা চালিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সেই সত্যকে অবহেলা করে উল্টো ইরানকেই দায়ী করার চেষ্টা করছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আইনি প্রেক্ষাপটকে বিকৃত করার শামিল।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে ৩ হাজার ৩৭৫ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইরানজুড়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখের বেশি আবাসিক ভবন এবং ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইরান বলছে, এসব দেশের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করেই আগ্রাসন চালানো হয়েছে।
এই দাবির সপক্ষে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ এবং মার্কিন সেন্টরাল কমান্ডের বক্তব্যের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। যেখানে বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানসহ অন্যান্য দেশকে অসাধারণ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান তার চিঠিতে আরও জানিয়েছে, এসব দেশের কার্যক্রম জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং এটি ১৯৭৪ সালের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী আগ্রাসনের শামিল। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেসব দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই আগ্রাসনে সহায়তা করেছে, তাদের আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
এনএন/ ১ মে ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::ইরানবিরোধী হামলায় সহায়তাকারী দেশগুলোকে জবাবদিহির হুঁশিয়ারি first appeared on DesheBideshe.



