
মুজাফফরাবাদ, ২০ জুন – পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
৪৫ সদস্যের আইনসভায় এই আসনগুলো ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত। গত ৯ জুন ঘোষিত ধর্মঘটের আগে থেকেই বিক্ষোভ তীব্র হতে শুরু করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে সহিংসতায় ২০ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ গণঅভিযান কমিটি। বর্তমানে সংগঠনটির কয়েক হাজার সমর্থক আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে রাওয়ালাকোট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। টানা ধর্মঘটের ফলে পুরো অঞ্চলে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। মুজাফফরাবাদের কর্মব্যস্ত এলাকাগুলো এখন জনশূন্য।
সরকারের নির্দেশনায় জ্বালানি পাম্প এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সংরক্ষিত আসনগুলোতে এমন প্রার্থীরা নির্বাচন করেন যারা কাশ্মীরে বসবাস করেন না।
এর ফলে কাশ্মীরের বাইরের মানুষ স্থানীয় রাজনীতিতে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পায়। উল্লেখ্য যে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে।
এস এম/ ২০ জুন ২০২৬






