আক্রান্ত হলে মার্কিন ঘাঁটিতে হবে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি

আক্রান্ত হলে মার্কিন ঘাঁটিতে হবে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হবে—এমন সতর্কবার্তা আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছে তেহরান। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রয়টার্সকে দেয়া এক বক্তব্যে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়ার পর এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

আক্রান্ত হলে মার্কিন ঘাঁটিতে হবে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি

একটি ইসরায়েলি মূল্যায়নের বরাতে দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপের পরিসরও সময় এখনো স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরান আঞ্চলিক দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যেন তারা ওয়াশিংটনকে ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখে। তিনি জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশকে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে ওই দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রতিফলন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকারের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানে সরকার পতনের সম্ভাবনা অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র “অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ” নেবে। তিনি বলেন, ‘যদি তারা ফাঁসি দেয়, তাহলে আপনারা কিছু জিনিস দেখতে পাবেন।’ একই দিনে ট্রাম্প ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল করুন। সহায়তা আসছে।’

রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর এবং কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী সদরদপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এই ঘাঁটিটিতেই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এই তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু চাকরি নয় : প্রধান উপদেষ্টা

প্রসঙ্গত, ইরানে চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে বলে একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির শাসক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য এটিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

Scroll to Top