
মাসে প্রায় ৭ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত অভিনেত্রী শিখা মৌর। সেই বিল একপর্যায়ে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার টাকায়। অর্থাৎ, এক মাসে বিল বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। হঠাৎ বিল বৃদ্ধির কারণ জানতে অভিযোগ করার পর তার বাসা পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ডেসকোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিদর্শনের সময় বাসায় ছিলেন না শিখা মৌ। তিনি তখন শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর উপসহকারী প্রকৌশলী ও তার টিম শিখা মৌর বাসা পরিদর্শন করেন। এ সময় মিটার রিডিং ও প্রযোজ্য ট্যারিফ রেট অনুযায়ী কীভাবে বিল নির্ধারণ করা হয়, তা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তাদের দাবি, বিল বেশি হওয়ার কারণও তাকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় শিখা মৌ বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
পরিদর্শনে শিখা মৌর বাসায় দুটি এসি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা বলছেন, এসি ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে মাসিক বিলে।
তবে শুধু দুটি এসি ব্যবহারের কারণেই ৭ হাজার টাকা থেকে ১৭ হাজার টাকা বিল হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও কিছু বিষয় যাচাই প্রয়োজন। এসিগুলো কতক্ষণ চালানো হচ্ছে, এগুলোর ক্ষমতা কত এবং আগের তুলনায় ব্যবহারের সময় বেড়েছে কি না, এসবের পাশাপাশি অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারও বিবেচনায় নিতে হবে।
এ ছাড়া মিটারের বর্তমান রিডিং, আগের মাসগুলোর ব্যবহার এবং আগের ও বর্তমান বিলের তুলনামূলক হিসাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শিখা মৌর বাসার বৈদ্যুতিক লোড পুনরায় পরীক্ষা করতে তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন কর্মকর্তারা। এ সময় তিনি জানান, শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকায় এই মুহূর্তে বাসায় এসে লোড পরীক্ষা করানো তার পক্ষে সম্ভব নয়।
টেলিফোনে আলাপকালে শিখা মৌ জানান, তিনি স্ট্রোকের রোগী। এ কারণে আগের তুলনায় বর্তমানে বেশি সময় এসি ব্যবহার করতে হচ্ছে। তার দাবি, এসি ব্যবহারের সময় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ খরচও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে করা অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও ক্লিপের বিষয়েও তার কাছে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি জানান, ভিডিও ক্লিপটি ইতোমধ্যে ডিলিট করে দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুটি এসি এবং আগের তুলনায় বেশি সময় সেগুলো চালানোর কারণে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে অভিযোগকারীর উপস্থিতিতে বৈদ্যুতিক লোড পরীক্ষা, মিটার রিডিং যাচাই এবং আগের ও বর্তমান বিলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
শিখা মৌর সুবিধাজনক সময়ে আবারও তার বাসা পরিদর্শন করে বৈদ্যুতিক লোড ও মিটার রিডিং যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…