ফরেক্স ট্রেডিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন জুয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে আব্দুল লতিফ, ওমর ফারুক, মো. কাজী নুরে আলম (রানা), রেজাউল হক খান (রাজিব) ও সুনীল চন্দ্র দাস গং-এর নাম। আধুনিক প্রযুক্তিকে ঢাল বানিয়ে সাধারণ মানুষকে রাতারাতি ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে এই চক্রটি দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করছে।
ভুক্তভোগীদের মতে, শুরুতে অল্প টাকা বিনিয়োগে বেশি লাভের প্রলোভন দেখায় চক্রটি। আস্থা অর্জনের জন্য প্রথম দিকে কিছু লাভ দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করা মাত্রই গ্রাহকের পুরো মূলধন গায়েব হয়ে যায়। সারাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় এই চক্রের এজেন্টরা অত্যন্ত সক্রিয়। তারা একটি শক্তিশালী বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার ও তরুণদের ফাঁদে ফেলছে।
ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে সিআইডি ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারী দল এই চক্রের ব্যবহৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সন্দেহভাজনদের আর্থিক লেনদেনের হিসাব এবং তাদের নেপথ্যে থাকা সহযোগীদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করছে। সিআইডি জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুতই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও যেকোনো ধরনের অনলাইন জুয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসি (BSEC) এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান বা কার্যক্রমের অনুমোদন দেয়নি। তাই নিশ্চিত লাভের লোভে পড়ে এ ধরনের অবৈধ প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ না করার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা ও যুবসমাজকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ (BFIU) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।



