জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ফ্রান্সের বক্তব্যের সময় মার্কিন প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউট | চ্যানেল আই অনলাইন

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ফ্রান্সের বক্তব্যের সময় মার্কিন প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউট | চ্যানেল আই অনলাইন

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ফ্রান্সের প্রতিনিধি বক্তব্য শুরু করলে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা।

সোমবার (২৭ জুলাই) এই ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের চার বছরের মেয়াদ নবায়নের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডার দুই দিন পর।

শনিবার (২৫ জুলাই) জেনেভায় ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশন সামাজিক মাধ্যমে জানায়, মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আর ‘মানবাধিকারের আলোকবর্তিকা’ নয়। বরং দেশটি উত্তর কোরিয়া, নিকারাগুয়া, মালি এবং রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এর জবাবে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেন, ফ্রান্স এমন একজন মানবাধিকার প্রধানকে সমর্থন দিয়েছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মতো স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে নিয়মিত সমালোচনা করেন, অথচ বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়নমূলক শাসকদের প্রতি নমনীয় আচরণ করেন।

ওয়াকআউটের পর জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প প্রতিনিধি ড্যান নেগ্রিয়া নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, ফ্রান্স তাদের ‘উদ্ধত ও অসম্মানজনক বক্তব্য’ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধিদল এ ধরনের ওয়াকআউট অব্যাহত রাখবে।

অন্যদিকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফঁ নিজের বক্তব্যে ওয়াকআউটের প্রসঙ্গ উল্লেখ না করে বলেন, ফ্রান্স জাতিসংঘের স্বাধীনতা এবং কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

ফিলিস্তিন ও ইরান ইস্যুতে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমালোচক ভলকার তুর্ককে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১৪৪ ভোটে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। তার বিপক্ষে ভোট পড়ে ১০টি এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

২০২৫ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়েছে এবং কয়েক ডজন জাতিসংঘ সংস্থা থেকে সরে এসেছে। একই সঙ্গে তুর্কের মেয়াদ নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা পুনর্বিবেচনারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

এছাড়া ন্যাটোতে প্রতিরক্ষা ব্যয়, বাণিজ্যনীতি এবং ন্যাটোভুক্ত ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির প্রশ্নেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেও ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনার মুখে পড়েছে।

Scroll to Top