
ঢাকা,০৭ নভেম্বর-গ্রাম পুলিশকে প্রাতিষ্ঠানিক পুলিশের স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের বন্ধু। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আমরা আপনাদের স্বীকৃতি দিয়েছি, এ দেশের মানুষও স্বীকৃতি দিয়েছে। আপনারা গ্রাম পুলিশ হলেও ইনশাআল্লাহ প্রাতিষ্ঠানিক পুলিশের স্বীকৃতি পেয়ে যাবেন।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
গ্রাম পুলিশের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ প্রাচীন বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাসের অংশ। হাজার বছর আগে এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল। মোগল আমলে তারা একটি নাম পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাদের গ্রাম পুলিশ নামে পরিচিত করেন এবং আইনি স্বীকৃতি দেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও তাদের জীবনমান উন্নয়নে বোনাস দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের অবরুদ্ধ স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ৭ নভেম্বর পালন করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ কখনো কোনো তাঁবেদারি শাসন মেনে নেবে না। তারা কখনো স্বাধীনতাকে অবরুদ্ধ থাকতে দেবে না। আমরা কোনো দিন পরাধীন হবো না।
গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে তৃণমূল মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। গ্রামের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, পাহারা দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামকে শক্তিশালী করতে হলে গত ১৭ বছরের কিছু জঞ্জাল ও অন্যায় থেকে মুক্ত হতে হবে, যেগুলো এখনো আমরা বহন করে চলেছি। প্রতিটি গ্রামকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশ সদস্যদেরই প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ দায়িত্ব তারা পালন করতে পারবেন কি না, সে প্রশ্নও রাখেন মন্ত্রী।
গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার তাদের সব দাবি পূরণের বিষয়ে আশাবাদী। দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হলে বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ তাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, আশা করি আপনাদের সব দাবি-দাওয়া পূরণ হবে। আপনারা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। ধীরে ধীরে আপনাদের জীবনমান আরও উন্নত হবে। দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হলে আপনাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ভাতা ও বেতনসহ সবকিছু বাড়ানো হবে।
এস এম/ ০৭ নভেম্বর ২০২৬


