প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে শিল্পী আবুল বার্ক্ আলভী বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী। শিশু থেকে পরিণত বয়সের অনেক মানুষের তৈরি শিল্পকর্ম এখানে রয়েছে। তাঁরা যদিও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিল্পকলার শিক্ষা গ্রহণ করেননি, তবে সহজাত সৌন্দর্যবোধের প্রকাশ ঘটেছে তাঁদের কাজে।
ভূমিহীন নারী নেত্রী রাহেলা বেগম শুরু থেকেই যুক্ত রয়েছেন নিজেরা করির সঙ্গে। তিনি বলেন, একসময় তিনি মানুষের সামনে এসে কথা বলতে পারতেন না। কিন্তু এখন জানেন নাগরিক হিসেবে, নারী হিসেবে তাঁদের কী অধিকার আছে। সেই অধিকার আদায়ের জন্য এখন সবার সামনে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পারেন।
এই প্রদর্শনীতে মূলত তিন রকমের কাজ আছে। খবরের কাগজের ওপর নানা বিষয়ের এঁকেছে শিশুরা। আরেক ধরনের কাজ অ্যাপ্লিকের নকশায় করা। এসব অ্যাপ্লিকের কাজ বিশালাকার কাপড়ের ওপরে বসানো হয়েছে। দেখতে অনেকটা নকশিকাঁথার মতো মনে হয়। তবে নকশাগুলো অনেক বড় আর প্রতিটিই আলাদা ধরনের। অন্য কাজগুলো কাপড় ও তুলা দিয়ে তৈরি করা পুতুল। এসব ছবি ও পুতুলের বিষয়বস্তু হিসেবে এসেছে সবজি বিক্রেতা, ফুল, ময়ূর, শহীদ মিনার, হাঁস, খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করা, কুঁড়েঘর, হাতি, বাঘ প্রভৃতি। এ ছাড়া জামদানি শাড়ির ওপর বিভিন্ন দাবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অ্যাপ্লিকের নকশায়। ব্যানারের মতো করে এই শাড়িগুলো ঝুলিয়ে দেওয়া হয়ে ছাদ থেকে। এসব দাবির মধ্যে আছে ‘নারীর অধিকার মানবাধিকার/ সম্পদে তার সম অধিকার’, ‘অংশীদারত্ব নিশ্চিত করো/ দুর্নীতি প্রতিরোধ কর’ ইত্যাদি।
প্রদর্শন কক্ষের মেঝের মাঝখানে এবং বাইরে দেওয়া সাজিয়ে রাখা হয়েছে পুতুলগুলো। বৃত্ত আর্ট ট্রাস্টের সঙ্গে ‘জলপুতুল পাপেটস’ অংশ নিয়ে পুতুল তৈরির কলাকৌশল শিখিয়েছে নিজেরা করির সদস্যদের।

