পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবু ইউসুফ প্রামাণিক নামের এক মাদরাসাশিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে।
পরে তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় পদ্মা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি নুরানী মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আবু ইউসুফ সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।
তিনি ওই মহিলা মাদরাসার পরিচালক ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দেড় শ ছাত্রী পড়াশোনা করে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো। ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো।
মাদরাসার আরো কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তার। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও তুলেছেন তার স্ত্রীর স্বজনেরা। তাদের দাবি, পরকীয়ার জেরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



