সাইফুল ইসলাম: মানিকগঞ্জে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. তমাল শনিবার বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর থানা ও এনসিপির জেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম মানিকগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সরবরাহের কাজ পেয়েছে কে এস এফ ট্রেড লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মানিকগঞ্জ জেলার দায়িত্বে রয়েছেন আরিফুল ইসলাম। তাঁর মাধ্যমে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে জনবল সরবরাহ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিং সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তমালের কাছ থেকে জামানত হিসেবে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন আরিফুল। এ সময় তাঁকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল প্যাডে একটি নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়। ওই নিয়োগপত্র নিয়ে হাসপাতালে যোগদান করতে গেলে তমাল জানতে পারেন, তাঁর নামে কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
পরে টাকা ফেরত চাইলে আরিফুল নানা অজুহাতে তাঁকে ঘোরাতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। এরপরও টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে গালিগালাজ ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন তমাল।
এ বিষয়ে কে এস এফ ট্রেড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. শামীম হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। যে কেউ অভিযোগ দিলেই তো হয় না। ঘটনার সত্যতা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।” এ সময় সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন তিনি।
অভিযুক্তের বাবা ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, “আরিফুলের কি চাকরি দেওয়ার কোনো যোগ্যতা আছে? সে কীভাবে চাকরি দেবে? এ রকম কোনো বিষয় আমার জানা নেই। কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি সে নিজেই দেখবে।”
এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ডিউটি অফিসারের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



