সাইফুল ইসলাম : খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমকে না জানিয়ে সরকারি সফরসূচি তৈরি করে খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব হারিয়েছেন তাঁর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. আবদুল আওয়াল বুলবুল। এ ঘটনায় সফরসূচি তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন এপিএস আবদুল আওয়াল বুলবুল। এ সফরের জন্য গত ৮ অক্টোবর মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে একটি সরকারি সফরসূচি জারি করা হয়।
সফরসূচিতে ঢাকার মোহাম্মদপুরে এপিএসের নিজ বাসা থেকে যাত্রা শুরু করে পরিদর্শন শেষে আবার বাসায় ফেরার কর্মসূচি উল্লেখ করা হয়। সফরের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে। জ্বালানির ব্যবস্থা করতে অনুলিপি দেওয়া হয় অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের পরিচালককেও। ওই সফরে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রের ভাষ্য, এপিএসের এই সফর সম্পর্কে কিছুই জানতেন না খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। বিষয়টি জানার পর তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সফরের পরদিন আবদুল আওয়ালকে নিজের কক্ষে ডেকে অফিস থেকে চলে যেতে বলেন মন্ত্রী। পরে তাঁকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, খাদ্যমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে এ ধরনের কর্মসূচি পালনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, তাঁকে না জানিয়ে খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে যাওয়ায় আবদুল আওয়ালকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আগেও উঠেছিল খবরদারির অভিযোগ
এর আগে আফরোজা খানম রিতা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থাকাকালে তাঁর এপিএস আবদুল আওয়াল বুলবুলের বিরুদ্ধে নিজ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অযাচিত নজরদারি ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল।
অভিযোগ ছিল, গরিব-অসহায় মানুষের জন্য সরকারি বিশেষ বরাদ্দে সরাসরি হস্তক্ষেপ, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে তদারকি এবং নিজস্ব বলয় গড়ে তুলতে বিভিন্ন দপ্তরপ্রধানের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিগত বৈঠক করতেন তিনি। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নীরব ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছিলেন। একই ধরনের অসন্তোষ মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়েছিল বলে দাবি করা হয়।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ মে ‘সরকারি অফিসে মন্ত্রীর এপিএসের খবরদারি, প্রশাসনে নীরব ক্ষোভ’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে জুমবাংলা।




