
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর – এশিয়ান গেমস থেকে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট দেশে ফেরার মাত্র সপ্তাহখানেকের মাথায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের ধাক্কা! এশিয়ান গেমসে সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়ন ও আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে হঠাৎ ইস্তফা দিলেন ৩ জন শীর্ষ কর্মকর্তা।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং দুই নির্বাহী সদস্য—সাবেক তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির ও হাবিবুর রহমান জামিল।
গত বছর ৩০ নভেম্বর গঠিত চার বছর মেয়াদী এই বর্তমান নির্বাহী কমিটির মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একসঙ্গে এই ৩ জনের সরে দাঁড়ানো দেশের ক্রীড়াঙ্গনে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
কার মুখে কী মন্তব্য?
পদাধিকার বলে বিওএ-এর সহ-সভাপতি এবং মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা নিজের পদত্যাগের বিষয়ে সরাসরি কারণ প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছি। তবে কেন করেছি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
অন্যদিকে ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য হওয়া সাবেক তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যস্ততাকে কারণ দেখিয়ে বিওএ মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানার কাছে অব্যাহতিপত্র জমা দিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিওএ মহাসচিব বলেন, ‘সহ-সভাপতি শুক্লা ও জামিল সাহেবের চিঠি আগেই পেয়েছি, সাব্বির সাহেবের চিঠিও হাতে এসেছে। পদ শূন্য হলে আমরা বিওএ-এর গঠনতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) নির্দেশনা মেনে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব।’
ক্রীড়াঙ্গনের রাজনীতির হাওয়া বদলই কি মূল কারণ?
বিওএ-এর ৩ কর্মকর্তার হঠাৎ এই পদত্যাগের পেছনে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন:
ফেডারেশনগুলোতে ব্যাপক রেশাফলিং:
রাজনীতির পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্টের পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও একের পর এক রদবদল ঘটে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফুটবল ও ক্রিকেট বাদে অধিকাংশ ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছিলেন। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বিএনপি ১৮ জুলাই একযোগে ২৮টি ক্রীড়া ফেডারেশনের কমিটি পরিবর্তন করে।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) সরাসরি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রদবদল:
অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারলেও ফুটবল ফেডারেশন ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে তা অসম্ভব। কারণ ফিফা (FIFA) ও আইওসি (IOC) কোনো সরকারি বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মেনে নেয় না—প্রমাণ পেলে সরাসরি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তাই সরাসরি এনএসসি হস্তক্ষেপ না করে ব্যক্তিগত ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ’-এর পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
নতুন বিওএ কমিটির পূর্বাভাস:
এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পরপরই বিওএ কমিটিতে নতুন রক্তের উপস্থিতি এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের যে গুঞ্জন স্পোর্টস অ্যারেনায় ভাসছিল, এই ৩ কর্মকর্তার পদত্যাগ তারই প্রথম সোপান বা আনুষ্ঠানিক সূচনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
“আইওসইর চোখ এড়িয়ে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে রাজনৈতিক ভারসাম্য বা রদবদল আনতে হলে ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ’ ছাড়া অন্য কোনো নিরাপদ রাস্তা নেই।” — ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষক।
দেশের ক্রীড়াঙ্গন কোন দিকে যাচ্ছে?
এশিয়ান গেমসের হতাশা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার মাঝেই অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অভ্যন্তরীণ এই অচলাবস্থা বাংলাদেশের ক্রীড়া অ্যাথলেটদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতিকে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তায় ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনএন/ ১৩ অক্টোবর ২০২৬

