
ঢাকা, ০৬ অক্টোবর – উচ্চ মূল্যস্ফীতি, লাফিয়ে বাড়া নিত্যপণ্যের দাম এবং জীবনযাত্রার লাগামহীন খরচে দিশেহারা দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি। চাল, আটা, তেল, চিনি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রোটিনের শেষ ভরসা ‘ডিম’ ও ‘ব্রয়লার মুরগি’—সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় ক্ষোভ দানা বাঁধছে সর্বস্তরে।
এই সংকটকালে সরকারের নীতিগত ব্যর্থতা, বাজেটের গলদ ও জ্বালানি খাতের সিদ্ধান্তকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিস্তারিত ও ক্ষুরধার পোস্টে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ৩টি মূল কারণ বিশ্লেষণ করেন তিনি।
‘একটা ডিম ১৫ টাকা’: নিম্নবিত্ত ও ব্যাচেলরদের কাছে আতঙ্কের নাম
পোস্টে নাহিদ ইসলাম লেখেন, “একটা ডিম ১৫ টাকা—এই চার শব্দের বাক্যটা আজ বাংলাদেশের কোটি নিম্নবিত্ত আর নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে একটা আতঙ্কের নাম। যাদের প্রতিবেলায় মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের প্রোটিনের একমাত্র ভরসা এই ডিম। হলে থাকা ছাত্র কিংবা মেসে থাকা ব্যাচেলর তরুণের লাইফলাইন এখন এই ১৫ টাকার ডিম।”
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষের আয় এক টাকাও বাড়েনি, কিন্তু বেঁচে থাকার ন্যূনতম খরচ বেড়েছে বহুগুণ। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকায় ঠেকেছে, দুধের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং বাজারে ডিমের হালি গিয়ে ঠেকেছে ৫৫ টাকায়।
মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ৩টি মূল কারণ
সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কীভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, তার পেছনে ৩টি প্রধান কারণ তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক:
১. মেগা প্রজেক্টকেন্দ্রিক বড় বাজেট: অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্ট এবং কার্ড ছাপানোর জন্য প্রায় ২০ শতাংশ বড় বাজেট তৈরি করা হয়েছে। অথচ ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধের বা কর বাড়ানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। ফলে এই বাড়তি টাকার সংস্থান করা হচ্ছে ভ্যাট বাড়িয়ে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অথবা নতুন টাকা ছাপিয়ে—যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে মূল্যস্ফীতি হিসেবে।
২. জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি: হুট করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোয় সেচ, পোলট্রি, মাছ চাষ, হিমাগার ও পণ্য পরিবহন খরচ একসঙ্গে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের এই বাড়তি উৎপাদন ও পরিবহন খরচের চড়ামূল্য শেষ পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাকেই।
৩. সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজি: বাজার সিন্ডিকেট এবং স্থানীয় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক চাঁদাবাজির কারণে উৎপাদন খরচের চেয়ে বহুগুণ বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
এনসিপির প্রস্তাবিত সমাধান ও সরকারের প্রতি সমালোচনা
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এই সংকটের বিকল্প সমাধান সম্ভব ছিল। এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার ও ছায়া বাজেটে যা স্পষ্ট করা হয়েছিল:
ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ করা ও অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্টের পেছনে অর্থ ব্যয় বন্ধ রাখা।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট তুলে নেওয়া ও মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা কমানো।
জ্বালানি খাতে প্রয়োজনে বাড়তি ভর্তুকি দিয়ে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকার সেই টেকসই পথে না হেঁটে বড় ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেট ও কমিশনভোগীদের সুবিধা দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে, যার বলি হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
এনএন/ ০৬ অক্টোবর ২০২৬

