
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর- দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার একই ফ্র্যাঞ্চাইজির অধীনে তিন ফরম-থ্রি কাঠামোর তিনটি টুর্নামেন্টেই অংশ নেবে অভিন্ন ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। দলগুলো হলো—এইস ব্লুস্টারস, ফর হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ডি-থ্রি কাঠামোর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিন্যাটে ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। নতুন এই কাঠামোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডোমেস্টিক ৩’ বা ‘ডি-থ্রি’।
ডি-থ্রি কাঠামোর তিনটি টুর্নামেন্টেই অংশ নেবে অভিন্ন ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। দলগুলো হলো—এইস ব্লুস্টারস, ফরচুন গ্রুপ, সিটিজেনস ব্যাংক, ওয়ালটন গ্রুপ, সেভেন সিংস সিমেন্ট ও একমি।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ডি-থ্রি কাঠামোর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছে বিসিবি। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলেও এর আর্থিক ও পরিচালন কাঠামোর বড় অংশই থাকবে বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করবে বিসিবি। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও নির্ধারণ করবে বোর্ড। প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ২৩ জন ক্রিকেটার দলে নিতে পারবে। ক্রিকেটারদের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ অক্টোবর।
শুধু ক্রিকেটারদের নয়, কোচিং স্টাফদের পারিশ্রমিকও নির্ধারণ করবে বিসিবি। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানার কাঠামো থাকলেও প্রতিযোগিতাটির অর্থনৈতিক ও পরিচালন ব্যবস্থায় বোর্ডের নিয়ন্ত্রণই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকছে।
বিসিবির এই কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা ও খেলার সুযোগ বাড়ানো। একই ফ্র্যাঞ্চাইজির অধীনে তিন ফরম্যাটে খেলার সুযোগ থাকায় ক্রিকেটারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডি-থ্রির যাত্রা শুরু হবে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ ডিসেম্বর বরিশালের জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়ামে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি পর্ব। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও টি-টোয়েন্টির ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এরপর জানুয়ারিতে মাঠে গড়াবে প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা। তিন ফরম্যাটের আয়োজন শেষ হবে আগামী বছরের মে মাসে ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে।
ডি-থ্রি কাঠামোয় তিন ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ৪২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে ১৯টি, ওয়ানডেতে ১৬টি এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৭টি ম্যাচ রাখা হয়েছে।
নতুন এই কাঠামোয় তিন ফরম্যাট মিলিয়ে প্রতিটি দল সর্বনিম্ন ১২টি এবং সর্বোচ্চ ১৭টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
এস এম/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

