
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কানাডাকে প্রথম সহযোগী সদস্য (অ্যাসোসিয়েট মেম্বার) করার প্রস্তাব দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উপর ভারী শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তুরস্কভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লট শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে তিনি এই প্রস্তাবকে শত্রুতামূলক কাজ হিসেবে দেখেন কিনা।
তিনি বলেন, এ প্রস্তাবকে আমি এটা হাস্যকর মনে করি। যদি তাদের উদ্দেশ্য ভালো হয়, তাহলে সমস্যা নেই আর যদি আমি এটাকে কোনোভাবে শত্রুতামূলক কাজ মনে করি, তাহলে আমি খুব গুরুতর শুল্ক আরোপ করব বা অনেক বিষয়ে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।
এই প্রস্তাব এমন সময় এলো যখন ব্রাসেলস ও অটোয়া ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপর তাদের নির্ভরতা কমাতে চাইছে।
ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরজুলা ফন ডের লায়েন স্ট্রাসবুর্গে তার বার্ষিক ‘স্টেট অফ দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ ভাষণে কানাডাকে প্রথম সহযোগী সদস্য (অ্যাসোসিয়েট মেম্বার) করার এই ধারণা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম সহযোগী সদস্য হওয়ার সুযোগ দিতে তিনি দেশটির সঙ্গে কাজ করতে চান। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলার পর তিনি স্ট্যান্ডিং ওভেশন পান।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় ‘ভাঙন’ দেখা দেওয়ায় ব্রাসেলস ও অটোয়ার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এ আয়োজনে যোগ দেওয়া প্রথম অ-ইউরোপীয় সরকারপ্রধান তিনি।
তবে ‘সহযোগী সদস্যপদ’ ঠিক কী ধরনের হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কার্নি বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো আগামী মাসে মন্ট্রিলে অনুষ্ঠেয় ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনের আগে গতি সঞ্চয় করা।
তিনি ইউরোপিয়ান ব্লকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন কারণ কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে।
ফন ডার লেয়েন বলেন, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্পর্ককে শুধু বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ফন ডার লেয়েন। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তায় যৌথভাবে কাজ করার কথাও বলেন তিনি।
এই অংশীদারত্ব কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং অভিন্ন শক্তি ও নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, আঞ্চলিক হুমকি ও চীনের প্রতিযোগিতার মধ্যে বিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে কানাডা বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কার্যালয়।
সহযোগী সদস্যপদের মানে কী হবে?
ইইউ চুক্তিতে ‘সহযোগী সদস্যপদ’ এর কোনো বিধান নেই, ফলে ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাবের পরিধি স্পষ্ট নয়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মধ্য-বাম জার্মান সদস্য ও ইইউ-কানাডা সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক টোবিয়াস ক্রেমার বলেন, এটার মানে কী, আমরা এখনো সত্যিকারভাবে জানি না।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ চলতি বছরের শুরুতে ইউক্রেনকে ইইউর সঙ্গে বিশেষ অংশীদারত্বের এই ধারণা দেন। তবে পূর্ণ সদস্যপদ চাওয়ায় কিয়েভ প্রস্তাবটি খুব একটা ইতিবাচকভাবে নেয়নি।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পূর্ণ ভোটাধিকার ছাড়াই ইউক্রেন ইইউর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পারত। পাশাপাশি ইউরোপীয় কমিশনে একজন প্রতিনিধি রাখার সুযোগ এবং ইইউর বাজেটের কিছু অংশ ব্যবহারের সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল।
তবে কোনো অ-ইইউ দেশের সঙ্গে এ ধরনের অংশীদারত্ব গড়তে সদস্য দেশগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন। ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাব ইইউর সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে কতটা সমর্থন পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে ব্রাসেলস ও অটোয়ার মধ্যে এরই মধ্যে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালে কার্যকর হওয়া কানাডা-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সিইটিএ) প্রায় সব শুল্ক তুলে দিয়েছে। চুক্তিটির পর থেকে দুই পক্ষের পণ্য ও সেবার বাণিজ্য ৮০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
কানাডা এই বছর ব্লকের প্রধান প্রতিরক্ষা ঋণ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া প্রথম অ-ইইউ দেশও হয়েছে।
ফন ডার লেয়েনের ভাষণ শেষে কার্নি ব্রিটেন সফরে যান নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠকের জন্য। বৃহস্পতিবার স্ট্রাসবুর্গে তার ভাষণের আগে কার্নি ফিরে আসার আগে দুজন এভারটন ও উলভারহ্যাম্পটনের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…