
গ্রেপ্তার শান্ত বিশ্বাস
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বুড্ডা গ্রাম থেকে শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সরাইলের শাহবাজপুর গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এক তরুণ নৃত্যশিল্পীর (১৯) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন শাহবাজপুর গ্রামের রাকিব মিয়া (২২)। তিন নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করেন তিনি। পরে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ওই তরুণ নৃত্যশিল্পী এক কিশোরী (১৬) ও এক তরুণীকে (১৯) নিয়ে সরাইল বিশ্বরোড মোড় এলাকায় পৌঁছান। পরে রাকিব মিয়াসহ দুই যুবক তাঁদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যান।
সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তাঁদের তিতাস নদের শাহবাজপুর এলাকায় নেওয়া হয়। একপর্যায়ে নদের মাঝখানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন পাঁচ যুবক।
পুলিশ জানায়, এরপর পুরুষ নৃত্যশিল্পীকে দেশি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণ করেন ওই যুবকেরা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।
পরে রাত ৮টার দিকে তিন নৃত্যশিল্পীকে তিতাস নদের নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদাপানিতে ফেলে পাঁচ যুবক নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…