
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরে ফিক্সিংয়ের সন্দেহে এনামুল হক বিজয়সহ মোট নয় ক্রিকেটারকে খেলতে দেওয়া হয়নি। বিসিবির পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, বিপিএলের স্পট ফিক্সিং নিয়ে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রায় ১১ মাস পর তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে কোনো ক্রিকেটারকে সরাসরি বিপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়নি। বরং কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেক্স মার্শাল তদন্তের প্রক্রিয়া এবং ওই নয় ক্রিকেটারকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম ও তদন্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং গোপনীয়। কাকে তদন্ত করতে হবে, কাকে করতে হবে না কিংবা কীভাবে তদন্ত করতে হবে- এসব বিষয়ে কেউ আমাদের নির্দেশ দেয় না। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিষয়টি জেনারেল কাউন্সেলের কাছে পাঠানো হয়। তিনি বিসিবি সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করে অভিযোগ দায়ের করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেন।’
মার্শাল জানান, কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলেই সেটিকে তদন্তের আওতায় নেওয়া হয় না। প্রথমে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা হয়। কোনো ক্রিকেটার যদি জানান, তাকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে খারাপ খেলার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটি তদন্ত শুরুর ভিত্তি হতে পারে। সতীর্থ ক্রিকেটার, কোচ, ম্যানেজার, সাংবাদিক কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য আসতে পারে।
কোনো ম্যাচে একটি দল অস্বাভাবিকভাবে খারাপ করলেই সেটিকে ফিক্সিংয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখা হয় না। মার্শাল বলেন, ‘কখনো কোনো দল ৫০ রানে অলআউট হলে রাগান্বিত দর্শক ফোন করে বলতে পারেন তারা নিশ্চয়ই ম্যাচ ফিক্সিং করেছে। এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত শুরু করার জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু একাধিক নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে এবং অ্যান্টি-করাপশন কোড ভঙ্গের সম্ভাবনা থাকলে তদন্ত শুরু করা হয়।’
তদন্তের পর্যায়ে সাক্ষীদের বক্তব্য নেওয়া, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করা হয়। অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী, তদন্তে সহযোগিতা না করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ আনার সুযোগ রয়েছে।
তদন্ত শেষে সাধারণত তিন ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়। পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার সুপারিশ করা হয়। নেতিবাচক কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আর কোনো প্রমাণ না মিললে কিংবা ভুল পরিচয়ের কারণে অভিযোগ উঠে থাকলে তদন্ত বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করা হয়।
বিপিএলের দ্বাদশ আসরে ৯ ক্রিকেটারকে খেলতে না দেয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্শাল। তার দাবি, প্রতিবেদনে নয়জন ক্রিকেটারের নাম আলাদাভাবে বাছাই করে তাদের নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়নি।
মার্শাল জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে সতর্ক করা হয়েছিল যে কিছু ব্যক্তি টুর্নামেন্টের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হতে পারেন। সে কারণে তাদের বিপিএলে আমন্ত্রণ না জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রতিবেদনে নয়জনের চেয়েও বেশি মানুষের নাম ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তাদের মধ্যে যারা বিপিএলের দ্বাদশ আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন, তাদের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল।
আগামীতে বিপিএলে ওই নয় ক্রিকেটার খেলতে পারবেন কি না- বিষয়টিও পরিষ্কার করেছেন মার্শাল। বলেছেন, ‘বিপিএল-১২ শুরুর আগে তাদের আমন্ত্রণ না জানানোর পরামর্শটি ছিল শুধু ওই আসরের জন্য। বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত না হলে কোনো ক্রিকেটারের ক্রিকেট খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই। তাদের কেউই অভিযুক্ত হয়নি। তাই তারা ক্রিকেট খেলতে সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন।’
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…