তিন দিনেই প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, শীর্ষে ঢাকা বিভাগ | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

শুক্রবার ২৮ আগস্ট চান্দাবিডি ডটকম-এ মাত্র তিন দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৭৬টি চাঁদা দাবির অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে দাবিকৃত অর্থের সম্মিলিত পরিমাণ ৮ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৪০১ টাকা। বেনামে অভিযোগ গ্রহণকারী অনলাইন পাবলিক লেজার চান্দাবিডি ডটকম-এ সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে অভিযোগ ও দাবিকৃত অর্থ—উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। ঢাকায় ১৫২টি অভিযোগে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা মোট রিপোর্ট করা অর্থের প্রায় ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

অভিযোগের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে ৭৪টি অভিযোগে প্রায় ৪০ লাখ ১৭ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। রাজশাহীতে ৩৮টি অভিযোগে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ এবং রংপুরে ৩১টি অভিযোগে প্রায় ৮৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা দাবির তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে বরিশালে ২৫টি অভিযোগে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার, খুলনায় ২৪টি অভিযোগে প্রায় ২৫ লাখ ৪২ হাজার, ময়মনসিংহে ২০টি অভিযোগে প্রায় ১২ লাখ ৬৪ হাজার এবং সিলেটে ১২টি অভিযোগে প্রায় ২৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা দাবির তথ্য জমা পড়েছে। এ হিসাবে অভিযোগের সংখ্যা ও দাবিকৃত অর্থের অনুপাত সব বিভাগে সমান নয়। চট্টগ্রামে অভিযোগ বেশি হলেও দাবিকৃত অর্থ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে রাজশাহী ও রংপুরে অভিযোগ কম হলেও টাকার অঙ্ক তুলনামূলক বেশি।

সাইটটিতে নতুন সুবিধা হিসেবে ‘চাঁদার ম্যাপ’ যুক্ত করা হয়েছে। এ মানচিত্রে বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা বা থানা অনুযায়ী অভিযোগের অবস্থান দেখা যায়। কোনো চিহ্নের ওপর মাউস রাখলে বা মোবাইলে স্পর্শ করলে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ দেখা যায়। চিহ্নে ক্লিক করলে অভিযোগের স্থান, ঘটনার ধরন, দাবিকৃত অর্থ, ফলাফল ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ পাওয়া যায়।

একই বা কাছাকাছি স্থানে একাধিক অভিযোগ থাকলে সেগুলো গুচ্ছ আকারে দেখানো হয়। ম্যাপ বড় করলে অভিযোগগুলো আলাদা চিহ্নে দেখা যায়। অভিযোগের ঘনত্ব বেশি থাকা বিভাগগুলো তুলনামূলক গাঢ় রঙে দেখানো হয়েছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বা থানা অনুযায়ী ফিল্টার করে নিজের এলাকার অভিযোগও আলাদাভাবে দেখা যায়।

প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাস্থলের গুগল ম্যাপস লিংকও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এক ক্লিকে সংশ্লিষ্ট এলাকা ও আশপাশের অবস্থান দেখা যায়। তবে নির্দিষ্ট ঠিকানা না থাকলে উপজেলা, থানা বা এলাকার আনুমানিক অবস্থান দেখানো হয়। তাই মানচিত্রে প্রদর্শিত স্থানকে প্রমাণিত ঘটনাস্থল না ধরে অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্যভিত্তিক আনুমানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

চান্দাবিডি ডটকম-এ অভিযোগ জমা দিতে কোনো অ্যাকাউন্ট বা লগইনের প্রয়োজন হয় না। অভিযোগকারীর নাম, ফোন নম্বর কিংবা ইমেইল ঠিকানাও চাওয়া হয় না। বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা, আনুমানিক অবস্থান, ঘটনার ধরন, দাবিকৃত অর্থ, ফলাফল ও বিস্তারিত বিবরণের পাশাপাশি প্রমাণের ছবিও যুক্ত করা যায়।

প্রকাশিত অভিযোগে দর্শনার্থীরা ‘সঠিক’ অথবা ‘সঠিক নয়’ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত অভিযোগগুলোতে প্রায় সাড়ে চার হাজারবার ‘সঠিক’ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তবে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া কোনো অভিযোগের স্বাধীন বা চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণ করে না।

কোনো অভিযোগে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত পরিচয়, আপত্তিকর ভাষা, ভুল স্থান বা টাকার অঙ্ক থাকলে দর্শনার্থীরা সংশ্লিষ্ট কার্ডটি রিপোর্ট করতে পারেন। এসব রিপোর্ট প্রশাসনিক প্যানেল থেকে পর্যালোচনা, সংশোধন বা মুছে ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রকাশিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয় এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে ইমেইলে পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত অভিযোগসংক্রান্ত ৫২৫টির বেশি ইমেইল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একটি অভিযোগ একাধিক দপ্তরে পাঠানো হয় বলে ইমেইলের সংখ্যা অভিযোগের চেয়ে বেশি।

সাইটটিতে প্রকাশিত তথ্য মূলত ব্যবহারকারীদের বেনামে জমা দেওয়া অভিযোগ। এগুলো কোনো আদালত, তদন্তকারী সংস্থা বা স্বাধীন তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। প্রকাশের আগে ব্যক্তিগত পরিচয়, আপত্তিকর ভাষা ও নীতিমালা ভঙ্গের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হলেও অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল—সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি নিরাপদ বাংলাদেশ। যে দেশে একজন শ্রমিক, ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ নাগরিককে ভয় ও জুলুমের কাছে মাথা নত করতে হবে না; নিজের পরিশ্রমের উপার্জন নিয়ে তিনি নিশ্চিন্তে বাঁচতে পারবেন।

মানুষের সেই প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে বর্তমান সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রতি এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। হাজারো মানুষের ত্যাগে জন্ম নেওয়া নতুন প্রত্যাশার বাংলাদেশ যেন আবারও সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কাছে পরাজিত না হয়—এটাই আজ সাধারণ মানুষের দাবি।

Scroll to Top