নিয়ত কেন সকল কাজের নিয়ামক

অভ্যাস যখন ইবাদত হয়

নিয়তের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজকর্ম ইবাদতে রূপান্তরিত হয়। জীবিকা নির্বাহ, পরিবারকে সময় দেওয়া, শারীরিক সুস্থতার জন্য আহার গ্রহণ বা বিশ্রাম করা ইত্যাদি মানুষের প্রাত্যহিক অভ্যাস।

এসবের পেছনে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের বিশুদ্ধ নিয়ত থাকে, তবে তার প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।

‘বলে দিন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ—সবকিছুই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৬২)

একজন মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্যই হলো তাঁর প্রতিটি কাজকে আল্লাহর সন্তুষ্টির সঙ্গে যুক্ত করা। পার্থিব প্রয়োজন পূরণের সময়ও যখন অন্তরে সওয়াবের আশা থাকে, তখন তা আর সাধারণ কাজ থাকে না, বরং ইবাদতের মর্যাদা লাভ করে।

লৌকিকতার ক্ষতি

নিয়ত বিশুদ্ধ না থাকার সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো ‘রিয়া’ বা লোক দেখানোর মানসিকতা। কোনো সৎকাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেয়ে লোকচক্ষুর প্রশংসা বা সামাজিক মর্যাদা পাওয়ার উদ্দেশ্যটা মুখ্য হয়, তখন সে কাজও ক্ষতির মুখে পড়ে।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব বড়ই দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য যারা তাদের নামাজে উদাসীন। যার লোক দেখানোর জন্য তা করে।’ (সুরা মাউন, আয়াত: ৪-৬)

রাসুল (সা.) এ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমি তোমাদের ওপর যে বিষয়টা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করি ছোট শিরক সম্পর্কে।’ সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ছোট শিরক কী?’ তিনি বললেন, ‘“রিয়া” বা লোক দেখানো আমল।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৬৩০)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, আমলের প্রতিদান দিবসে আল্লাহ–তাআলা রিয়াকারীদের বলবেন, ‘তোমরা ওই লোকেদের কাছে যাও, যাদের দেখিয়ে দুনিয়াতে আমল করতে। আর চেষ্টা করো তাদের কাছ থেকে কোনো বিনিময় বা কল্যাণ পাও কি না?’ (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, হাদিস: ৬৮৩১)

Scroll to Top