জীবনের নানা বাঁকে এসে আমাদের এমন কিছু কঠিন ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়, যার ওপর নির্ভর করে আমাদের ভবিষ্যৎ, ক্যারিয়ার, পরিবার ও সামগ্রিক শান্তি।
কোনটা বেছে নেওয়া ঠিক হবে আর কোনটা পরিহার করা উচিত—এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে মানুষ অনেক সময় দিকবিদিকশূন্য হয়ে পড়ে এবং এক ধরনের মানসিক উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। ইসলাম সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট ও সুসংহত একটি পথরেখা বাতলে দিয়েছে।
১. শান্ত থেকে যুক্তিবোধকে প্রাধান্য দেওয়া
যেকোনো কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো শান্ত থাকা এবং তাড়াহুড়ো না করা। আবেগ বা উত্তেজনার বশে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা মোটেও প্রজ্ঞার পরিচয় নয়।
ইসলামি জীবনদর্শনে কোনো বিষয়ে গভীর চিন্তাভাবনা, বিশ্লেষণ ও স্থিরতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। যখন আমরা না ভেবে কিংবা ক্ষণিকের আবেগে চালিত হয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো পদক্ষেপে পা বাড়াই, তখন তা সমাধানের চেয়ে নতুন নতুন সংকটই বেশি তৈরি করে।
ওহুদ যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতে সাহাবিদের বিচ্যুতির পরও তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ না হয়ে নবীজিকে আল্লাহ দয়া ও নম্রতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অস্থির হওয়ার ক্ষতির কথাও কোরআনে তুলে ধরেছেন। বলেছেন, “আল্লাহর অনুগ্রহেই আপনি তাদের প্রতি কোমলহৃদয় হয়েছেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করুন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯)