ভারতের উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে কাওয়াড় মেলায় ভিখারি সেজে আট ঘণ্টায় প্রায় ৪ হাজার রুপি আয় করেছেন ইউটিউবার পুরুষোত্তম বশিষ্ঠ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তার এই ‘এক্সপেরিমেন্ট’ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
পুরুষোত্তম বশিষ্ঠ তার বন্ধু শচীনকে সঙ্গে নিয়ে হরিদ্বারের বার্ষিক কানওয়ার যাত্রায় অংশ নেন। সেখানে তিনি ভিখারির ছদ্মবেশে তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের কাছে অর্থ সহায়তা চান। পুরো অভিজ্ঞতা ভিডিও করে পরে তা অনলাইনে প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় আট ঘণ্টায় পুরুষোত্তমের হাতে আসে ৪ হাজার রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৯০০ টাকার সমপরিমাণ। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন একই পরিমাণ আয় করা গেলে মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার রুপি আয় হতে পারে।
তবে অভিজ্ঞতাটি যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা ছিল বেশ কঠিন বলে জানান তারা। বারবার অপরিচিত মানুষের কাছে গিয়ে সাহায্য চাওয়ার কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়তে হয়েছে বলে জানান পুরুষোত্তম।
পরীক্ষার সময় শচীন একজন প্রকৃত ভিক্ষুকের পাশে বসেন। ওই ব্যক্তি তাকে জানান, তিনি নিজের নাম কিংবা কোথায় বসবাস করতেন, সেটিও আর মনে করতে পারেন না।
হরিদ্বারে প্রতি বছর কানওয়ার যাত্রায় বিপুলসংখ্যক ভক্ত সমবেত হন। গঙ্গা থেকে পবিত্র পানি সংগ্রহ করে তা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফেরেন তারা। এই বিশাল ধর্মীয় সমাবেশকেই সামাজিক আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য বেছে নেন দুই বন্ধু।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে মানুষের দানশীলতা বোঝার একটি ব্যতিক্রমী পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভিখারি সেজে কনটেন্ট তৈরি করাকে যথাযথ নয় বলে সমালোচনা করেছেন।
কিছু দর্শক আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভিক্ষাবৃত্তিকে সহজে আয় করার উপায় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে কি না। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ভিক্ষুকদের আয় কর ও আয়কর রিটার্নের মতো বিষয় থেকে মুক্ত থাকার প্রসঙ্গও এই পরীক্ষায় উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে পুরুষোত্তমের আট ঘণ্টার এই পরীক্ষা অনলাইনে শুধু ৪ হাজার রুপি আয়ের হিসাবই সামনে আনেনি, বরং দান, ভিক্ষাবৃত্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরির নৈতিকতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।


