ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সে তথ্যটি জানান। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের লাইফলাইন’ বা টিকে থাকার সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বা কোন কোন দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দিলে ওই দেশকেও ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ মোকাবিলা করতে হবে।
ট্রাম্প তার বার্তায় ইরানের বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’ চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের মধ্যে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
তবে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির আওতায় কোন কোন দেশ পড়তে পারে, তা স্পষ্ট নয়। এমনকি ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বা মধ্যস্থতায় যুক্ত থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এ হুমকি প্রযোজ্য হতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের অর্থনীতির ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেপলার ডেটা অনুযায়ী, ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনে থাকে। ফলে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
ইরানকে ঘিরে সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতেও। এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের বাণিজ্যিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। বর্তমানে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় অনেক জাহাজ মালিক এই পথ এড়িয়ে চলছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এর আগে এপ্রিল ও জুনে দুবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও তা দ্রুত ভেঙে পড়ে। ফলে সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফেরানোর প্রচেষ্টা এখনো অনিশ্চিত।


